চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ফের আলোচনায়
মনজুর এবার মন জুড়াবে কার!
‘২০১৫ সালেই রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছি’
এম মনজুর আলম
সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩৪ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:১১
| প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামের রাজনীতি মাঠের ‘রহস্যময় ব্যক্তি’ সাবেক সিটি মেয়র এম মনজুর আলম! ১৯৯৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের ডেরায়। দলটির সমর্থনে কাউন্সিলর নির্বাচনও করেন। এরপর তিনি হয়ে যান বিএনপির মানুষ। বিএনপির মনোনয়নে পাঁচ বছর ছিলেন মেয়র। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনীতি থেকে ছিলেন দূরে। ২০২৪ সালে আবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন। পরে এমপি পদে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেই। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে নেমে ফের গণমাধ্যমের শিরোনাম হন সত্তরোর্ধ্ব মনজুর।
এখন আবার আলোচনার খাতা খুলেছেন। এবার নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি ঘিরে। পহেলা বৈশাখের দিন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর বাসায় যাওয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন গুঞ্জন। এনসিপির হয়ে মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন মনজুর আলম– এমন আলোচনা আছে সবখানে। তবে মনজুর আলম জানিয়েছেন, তিনি যতটা না রাজনীতিবিদ, তার চেয়ে বেশি সমাজসেবক। সমাজসেবার সূত্র ধরেই সব দলের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সখ্য রয়েছে তাঁর।
এম মনজুর আলম বলেন, ২০১৫ সালেই রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছি। একসময় বিএনপির সমর্থনে মেয়র ছিলাম। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ছিলাম। সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই কিছু কর্মসূচি পালন করছি। এর আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলাম। সেখানেও যা করেছি, সমাজসেবার অংশ হিসেবে করেছি। এসবের সঙ্গে রাজনীতি না মেশালে খুশি হবো।
হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে দেখা হওয়ার সঙ্গে মেয়র নির্বাচনের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়র নির্বাচন নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই। হাসনাত আবদুল্লাহ আমার বাসায় মেহমান হিসেবে এসেছেন। আমি তাকে আপ্যায়ন করিয়েছি।
অভিন্ন মন্তব্য করে হাসনাত আবদুল্লাহ তাৎক্ষণিকভাবে বলেন, রাজনীতির বাইরে মানুষের সঙ্গে মানুষের সামাজিক সম্পর্ক থাকতে পারে। সাবেক মেয়র আমাকে তাঁর বাসায় চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন। এখানে কোনো রাজনীতি নেই।
মনজুর ও হাসনাত উভয়ে এমনটি বললেও বিএনপির বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ জুলাইযোদ্ধা। সংসদেও জুলাই নিয়ে সরব দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু মনজুরের সঙ্গে তাঁর গোপন সাক্ষাৎ ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। মুখে তারা আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট বললেও এখন তাদের সঙ্গেই দোস্তি করতে চায় তারা।
মনজুর আলম ছাত্রজীবনে সম্পৃক্ত ছিলেন ছাত্রলীগের সঙ্গে। আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে ১৯৯৪ সালে প্রথম ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তখন থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গেই সম্পৃক্ত ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ সময় সাবেক মেয়র ও তখনকার নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। এ কারণে ২০১০ সালের মেয়র নির্বাচনে তিনি অংশ নেন বিএনপির সমর্থন নিয়ে। সেবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও বিএনপির সমর্থনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচনের দিন সকালে ভোট বর্জন করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
মনজুর আলম ২০২৪ সালের সর্বশেষ নির্বাচনেও চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। না পেয়ে পরে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে হেরে যান। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আফছারুল আমীনের কাছে হেরেছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন তিনি। তবে ওই বছর আর নির্বাচন করেননি।
২০১৫ সালে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে সমাজসেবায় মনোযোগ দেন মনজুর। সখ্য থাকলেও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সরাসরি যোগ দেননি আর। নিজেকে সমাজসেবক হিসেবে পরিচয় দিয়ে অসহায় ও দুস্থ মানুষের সেবায় নিয়োজিত করেন নিজেকে। মা-বাবার নামে তিন দশক আগে গড়ে তোলা আলহাজ মোস্তফা-হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনে সময় দিতে থাকেন। তবু রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আছেন তিনি।
আবার কি রাজনীতিতে সরব হচ্ছেন– এমন প্রশ্নে মনজুর আলম বলেন, রাজনীতিতে ফিরতে চাইলে অনেক আগেই ফিরতাম। পদ-পদবি নিতাম। গুণীজনকে সম্মান করি আমি। এটাকে অনেকে রাজনীতির রূপ দেয়। আসলে রাজনীতি না করেও সমাজসেবা করা যায়।
বারবার দল বদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অপপ্রচার। মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে জেদ করে একবারই দল বদল করেছি আমি। এরপর রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছি। এর পরে সংসদ নির্বাচন করলেও সেটা স্বতন্ত্র হিসেবে।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম
- সাবেক মেয়র
- বিএনপি
- আওয়ামী লীগ
