ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নববর্ষে হাফিজার কোল জুড়ে এলো হাফিজ 

নববর্ষে হাফিজার কোল জুড়ে এলো হাফিজ 
×

নানির কোলে ছোট্ট হাফিজ। ছবি: সমকাল

সাজ্জাদ রানা, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:৫৮ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬:১৩

পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দধ্বনি, সুখের বার্তা। বাঙালি মজেছে বর্ষবরণের আয়োজনে। আর উৎসবের দিনে অর্থাৎ বাংলা নতুন বছরের প্রথম প্রহরে কুষ্টিয়ার হাফিজার কোল জুড়ে এলো নবজাতক। নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখে ছেলের নাম রাখেন হাফিজ।   
মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়ার কেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন হাফিজা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, মা ও ছেলে দুজনেই সুস্থ আছে। জন্মের পর থেকেই মায়ের বুকের দুধ টেনে খেতে পারছে শিশুটি। 

পরিবারের সদস্যরা জানান, আড়াই বছর আগে বিয়ে হয় হাফিজা খাতুনের। বছরের প্রথম দিনেই ফুটফুটে ছেলে সন্তানকে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা মা হাফিজা। আনন্দের বান বইছে স্বামী রুবেল হোসেন, শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ির সবার মধ্যে।
হাফিজাদের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদা আজমপুর গ্রামে। শ্বশুরবাড়ি সদর উপজেলার কবুরহাট গ্রামে। হাফিজার স্বামী রুবেল অটো রাইস মিলের মিস্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন স্থানীয় বাজারে। তিনি জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর নরমাল ডেলিভারির জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও সন্তান না হওয়ায় পরে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 
প্রথম সন্তান ছেলে সন্তান হওয়াই তিনি বেশ খুশি। জানান, স্ত্রীর নামের সাথে মিল রেখে সন্তানের নাম হাফিজ রাখা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নেওয়া হবে কয়েকদিন পর।
হাফিজা জানান, বিয়ের আড়াই বছর পর তার সন্তান হয়। দশ মাস আগে গর্ভধারণ করার পর থেকে বেশ সুস্থ ছিলেন তিনি। শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ির সবাই মিলেই দেখভাল করেছেন তাকে। 
তিনি জানান, ১৩ তারিখ তার ব্যথা ওঠে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সারাদিন হাসপাতালে ছিলেন। রাতে হাসপাতালের নার্সরা নরমাল ডেলিভারি করানোর জন্য চেষ্টা করেন। সমস্যা দেখা দেওয়ায় পরবর্তীতে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। নববর্ষের প্রথম প্রহরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার সন্তান পৃথিবীর অলো দেখে।  
হাসপাতালের পরিচালক ইমন হোসেন জানান, হাফিজাকে নতুন বছরের প্রথম দিন খুব সকালে আনা হয়। আমাদের প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার ছেলে সন্তান হয়েছে। মা ও নবজাতক সুস্থ আছে। কোন সমস্যা নেই। 
দুই বোনের মধ্যে বড় হাফিজা। তার সঙ্গে হাসপাতালে আছেন মা ও ছোট বোন। আছেন বাবা হাবিল মল্লিকও। স্বামীর বাড়ির লোকজনও আসছেন দেখতে। 
নবজাতকের নানি বলেন, 'প্রথম মেয়ের ঘরে নাতি হয়েছে। এ জন্য আমরা সবাই খুশি।' 

আরও পড়ুন

×