ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই চলছে খাস আদায়

আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই চলছে খাস আদায়
×

মাদারীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরের চর হাট থেকে খাস আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার থেকে সেখানে ইউএনওর নির্দেশে খাস আদায় করা হচ্ছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঐতিহ্যবাহী মাদবরের চর হাটটি সমিরদ্দিন মাদবর ওয়াকফ এস্টেট ও রহিমদ্দিন মাদবর ওয়াকফ এস্টেটের। কয়েক যুগের ব্যবধানে হাট, হাটের জমি ও নিয়ন্ত্রণ মূল মালিক পক্ষের হাত থেকে প্রভাবশালীদের কাছে চলে যায়। এ বিষয়ে বারবার জেলা প্রশাসনে অভিযোগ জানিয়েও সমাধান মেলেনি। বাধ্য হয়ে মোতাওয়াল্লিদের পক্ষে তছলিম চৌধুরী ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেন। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে জেলার ওয়াক্‌ফ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসককে আদেশ দেওয়া হয়। যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় উচ্চ আদালতে যান মোতাওয়াল্লি তছলিম চৌধুরী।

এ বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন (নং ১০৫/২০২৫ মামলা) করা হলে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই আদালত আদেশ প্রতিপালন করতে নির্দশেনা দেন জেলা প্রশাসনকে। সেই আদেশ পালন না করায় আবারও আদালতে যায় এস্টেট কর্তৃপক্ষ। ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর মোতাওয়াল্লির পক্ষে রায় দেন আদালত। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ও হাটের ইজারা কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতে গিয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলে আবেদন করেন মোতাওয়াল্লি তছলিম চৌধুরী। চলতি বছরের ১৬ মার্চ এ বিষয়ে আদালত জেলা প্রশাসনকে চার সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানো নোটিশ দেন। পাশাপাশি একই দিন হাটের ইজারা কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন। 

মোতাওয়াল্লি তছলিম চৌধুরীর ভাষ্য, গত সরকারের মতো এখনও আরেকটি চক্র প্রভাব বিস্তার শুরু করেছে। প্রশাসনের সহায়তায় হাটটি লুটেপুটে খাওয়ার চেষ্টা চলছে। ওয়াক্ফ সম্পত্তি হলেও বছরের পর বছর বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়ে উচ্চ আদালতের রায় পান। 
শিবচরের ইউএনও এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন, ‘আদালতের আদেশ পেয়েছি। আপিলের কার্যক্রম চলমান। এটি পেরিফেরি হাটের তালিকাভুক্ত থাকায় আপিলের আগেই খাস কালেকশন করা হয়েছে। কয়েকটি রেকর্ড অনুযায়ী হাটটি সরকারি সম্পত্তি।’ 
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, বিষয়টির সঠিক সমাধান আদালতের আদেশ অনুসারেই হবে। আইনের বাইরে কিছু করার সুযোগ দেখছেন না তিনি।

আরও পড়ুন

×