বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে কবরেই মারা গেলেন আরেক বন্ধু
আবুল হাসেম ও বাচ্চু পাটওয়ারী
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৫:০৮ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ২২:৫৫
প্রকৃত বন্ধুর সঙ্গে মরণেও যেন বাধা নেই, নেই দ্বিধা। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। ছোটকাল থেকে একসঙ্গে চলা দুই বন্ধুর একজনের দাফনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে কবরের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন আরেক বন্ধু।
ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কেরোয়া ছৈয়াল বাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে।
স্থানীয়রা জানায়, আবুল হাশেম (৯০) ও বাচ্চু পাটওয়ারী (৮৫) নামে দু’জনের বন্ধুত্ব ছিল বহু বছরের। একজন ছিলেন কাঠমিস্ত্রি, অন্যজন স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন। জীবদ্দশায় তারা একসঙ্গে সময় কাটাতেন, গল্প করতেন, এমনকি এলাকার মৃত ব্যক্তিদের দাফনের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়তেন। এ পর্যন্ত তারা শতাধিক কবর খুঁড়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
রোববার রাতে একসঙ্গে চা পান এবং সোমবার ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করেন দুইজন। কিন্তু সকালেই বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান বাচ্চু পাটওয়ারী।
বন্ধুর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে আবুল হাশেম শোকে ভেঙে পড়েন। কিছুক্ষণ কান্নার পর তিনি নিজেই বন্ধুর কবর খোঁড়ার জন্য কবরস্থানে যান। কবর খোঁড়ার একপর্যায়ে হঠাৎ করেই তিনি কবরের ভেতর লুটিয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে ওপরে তুলে আনা হলে দেখা যায়, ততক্ষণে তিনিও না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।
আবুল হাশেমের ছেলে জহির হোসেন জানান, আমার বাবা ও বাচ্চু চাচা ছিলেন খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা সবসময় একসঙ্গে থাকতেন। মানুষ মারা গেলে জান্নাতের আশায় বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়ে দিতেন। আজ সকালে বাচ্চু চাচার মৃত্যুর পর বাবা নিজেই তার কবর খুঁড়তে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কবরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।’
বাচ্চু পাটওয়ারীর ভাতিজা নাজির আহমেদ হুমায়ুন পাটওয়ারী বলেন, আমরা একসঙ্গে কবর খুঁড়ছিলাম। শেষ পর্যায়ে হঠাৎ করেই হাশেম কাকা কবরের ভেতরে শুয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত তুলে দেখি, তিনি আর বেঁচে নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল হোসেন, ইব্রাহিম খলিল সাকিল, আবু তাহেরসহ অনেকে জানান, দুই বন্ধু ভিন্ন পেশার হলেও তাদের চলাফেরা ছিল অবিচ্ছেদ্য। জীবনে যেমন একসঙ্গে ছিলেন, মৃত্যুতেও তেমনি একসঙ্গে চলে গেলেন-এ দৃশ্য এলাকাবাসীকে আবেগাপ্লুত করেছে। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
