ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সিলেটের মইন উদ্দিন মহিলা কলেজ

সাত বছর ধরে প্রভাষককে পুনর্বহাল নিয়ে টালবাহানা

সাত বছর ধরে প্রভাষককে পুনর্বহাল নিয়ে টালবাহানা
×

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১০:০৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের একজন প্রভাষককে চাকরিতে পুনর্বহাল নিয়ে অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান টালবাহানা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষককে পুনর্বহাল বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা মানছেন না। একই সঙ্গে কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনেরও অভিযোগ উঠেছে। 
সম্প্রতি এ বিষয়ে কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মাহবুবুর রউফ নয়ন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। 

জানা গেছে, মাহবুবুর রউফ নয়নকে ২০১৯ সালে কলেজ থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এর পর তিনি চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আপিল ও পরে উচ্চ আদালতে রিট করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই বছরই কলেজ কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে নয়নকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। সেই আদেশ আমলে নেননি তৎকালীন অধ্যক্ষ গিয়াসউদ্দিন। পরে অধ্যক্ষ হন আবিদুর রহমান। তিনিও বিষয়টি আমলে নেননি। নির্দেশনা অমান্য করায় প্রভাষক নয়ন আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত আবেদন করেন। ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয়বারের মতো তাঁকে পুনর্বহালের জন্য অধ্যক্ষকে চিঠি দেয়। এবারও তাঁকে পুনর্বহাল করা হয়নি। সর্বশেষ প্রভাষক নয়নকে স্বপদে পুনর্বহাল করে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে অবহিত করতে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রভাষক নয়নের অভিযোগ, ওই সময় তিনি উচ্চ শিক্ষার্থে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করায় সেই চিঠির বিষয়টি অধ্যক্ষ মো. আবিদুর রহমান গোপন করেন। 
সম্প্রতি ইংরেজি বিভাগীয় প্রধানের পদ খালি হলে সেখান সিনিয়র প্রভাষক নয়নের পরিবর্তে তাঁর জুনিয়র আরেক সহকর্মীকে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। নয়নের ওই জুনিয়র সহকর্মীকে বিভাগীয় প্রধানের পদে নিয়োগ দিতে চেষ্টা করছেন অধ্যক্ষ। বিভাগীয় প্রধানের নিয়োগের অনুমতির জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনইউ) লিখিত আবেদন করেছেন অধ্যক্ষ। এ বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর আবেদন করেছেন নয়ন। 

নয়নের আবেদনে বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক। নীতিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় প্রধানের পদ শূন্য থাকায় ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে তাঁকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো লিখিত চিঠি পাননি। 
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. আবিদুর রহমান বলেন, শিক্ষক নয়নের চাকরিতে পুনর্বহালের বিষয়টি কলেজ পরিচালনা পরিষদ দেখছেন। এ বিষয়ে তাঁর (অধ্যক্ষ) ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। তিনি দাবি করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো চিঠি গোপন বা গায়েব করা হয়নি। গিভর্নিং বডি ওই চিঠির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অবগত করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, যেহেতু নয়ন কলেজে এখনও স্বপদে ফেরেননি। সে কারণে পরিচালনা পরিষদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের নাম প্রস্তাব করেছে। 
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক মো. নাজিম উদ্দিন আহমদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনার বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই। প্রভাষক নয়ন একাধিকবার আবেদন করেছেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে কলেজ অধ্যক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, সম্প্রতি আরেকটি আবেদন করেছেন ওই প্রভাষক। সেটি আইন শাখার মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। 
এ বিষয়ে কলেজটির পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী কয়েস বলেন, কলেজের নতুন গভর্নিং বডি হওয়ার পর দুইবার মিটিং হয়েছে। প্রভাষক নয়নের বিষয়টি কেউ উপস্থাপন না করায় আলোচনা হয়নি। 

আরও পড়ুন

×