ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইল বিসিক শিল্পনগরী

লোকসান গুনে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান

লোকসান গুনে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান
×

 আবদুর রহিম, টাঙ্গাইল

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর অতিবাহিত হলেও টাঙ্গাইল বিসিক শিল্পনগরী পূর্ণতা পায়নি। অব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসম্মত পানির অভাব, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা, রাস্তাঘাট, পরিবেশসহ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় নানা সমস্যায় জর্জরিত এই বিসিক শিল্পনগরী। ৬৫টি প্লটে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার কথা থাকলেও কারখানা রয়েছে মাত্র ৩৫-৪০টি। শিল্প মালিকরা ছোট-বড় কারখানা গড়ে তুলে উৎপাদনে গেলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় লোকসানে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে টাঙ্গাইল শহরের তারটিয়ায় বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৮৬ সালে প্রায় ২৩ দশমিক ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জমির মোট ক্রয়মূল্য ধরা হয় ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। রাস্তা, প্রশাসনিক ভবন এলাকা ও মসজিদের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫০ একর ভূমি। বাকি জমি শিল্পকারখানার জন্য প্লট আকারে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শিল্প ইউনিটের সংখ্যা ৬৫টি।

এদিকে প্লট বরাদ্দ নিয়ে অনেক ব্যবসায়ী শিল্পকারখানা তৈরি না করে খালি রেখেছেন। কেউ বাসাবাড়ি তৈরি করেছেন। আবার শুরুতে কারখানা তৈরি করে উৎপাদনে গিয়ে লোকসানে পড়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। ওই কারখানা এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ৩৫ থেকে ৪০টি কারখানা উৎপাদন শুরু করলেও চালু রয়েছে মাত্র ২৩-২৪টি। ১০-১২টি মৌসুমভিত্তিক, তারা বছরে তিন থেকে চার মাস উৎপাদন করে। কেউ প্লট নিয়ে ভাড়া দিয়েছেন। প্লট বরাদ্দেও নীতিমালা অনুযায়ী কারখানা চালু করার জন্য কর্তৃপক্ষ একাধিকবার চিঠি দিয়েও কোনো সাড়া পাচ্ছে না। অথচ এই শিল্পনগরী পুরোদমে চালু হলে প্রায় ছয় হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতো।

পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসায়ীরা ঠিকমতো কারখানা চালাতে পারছেন না। এ ছাড়া শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠাকালে যেসব রাস্তাঘাট, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন করা হয়েছিল, তা আর সংস্কার করা হয়নি। ভেঙে গেছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে ড্রেনে ময়লা পানি জমে থাকে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টিতেই হাঁটুপানি জমে যায়। এখানে স্বাস্থ্যসম্মত পানি দেওয়ার কথা থাকলেও ময়লা ও মাত্রাতিরিক্ত আয়রনযুক্ত পানি দেওয়া হয়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিল্প মালিক জানান, টাঙ্গাইল বিসিক শিল্পনগরী গড়ে ওঠার সময় থেকে তারা এখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান করেছেন। প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পর থেকে এই শিল্পনগরীর তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিসিক কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় বিসিকের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। সরকার সার্ভিস চার্জ নিলেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত তারা। অনেকেই নিয়ম লঙ্ঘন করে এখন পর্যন্ত কোনো কারখানা তৈরি করেননি। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে প্লট বাতিলের বিধান রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ শুধু একটি চিঠি দিয়েই দায় সেরেছে।

বিসিকে কর্মরত নারী শ্রমিক পারভীন আক্তার জানান, কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় সন্ধ্যা হয়ে যায়। তখন বাড়ি ফিরতে সমস্যা হয়। নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন। তারা বিসিক এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানান। ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ভেতরে রাস্তা খারাপ। খানাখন্দে ভরপুর। বৃষ্টি হলে পানিতে সয়লাভ হয়ে যায়। মালপত্র বোঝাই ট্রাক নিয়ে যাওয়া যায় না।
এস্টেট অফিসার ওয়াসিম সরকারের ভাষ্য, বিনিয়োগে উৎসাহী করা, উদ্যোক্তা তৈরি করা, সর্বোপরি দেশের অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে বিসিক কাজ করে থাকে। বিনিয়োগের অভাব, ভালো উদ্যোক্তার অভাব, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকার কারণে অনেক উদ্যোক্তা কারখানা করেও উৎপাদনে যাচ্ছে না। তাদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে। 
মুন ফ্লাওয়ারের স্বত্বাধিকারী রিয়াজ উদ্দিন জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। অনেক ব্যবসায়ী লোকসানে পড়ে শিল্পকারখানা বন্ধ করে চলে গেছেন। 
বিসিক টাঙ্গাইলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শাহনাজ পারভীন জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ অভ্যন্তরীণ সংস্কার কাজ চলছে। দ্রুতই রাস্তাঘাটের কাজ শেষ হবে। যারা নিয়ম লঙ্ঘন করে কারখানা চালু করেননি, তাদের প্লট বরাদ্দ নীতিমালা অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×