ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যুবকের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি

নাসিরনগরে মানববন্ধন

যুবকের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি
×

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে যুবককে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: সমকাল

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মোক্তার হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন তাঁর স্বজন ও এলাকাবাসী। সোমবার দুপুরে উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের কৈটুপিপাড়ার আঞ্চলিক সড়কে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বক্তারা মোক্তারকে হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের ফাঁসির দাবি তোলেন। 

স্বজনেরা জানায়, প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে গত বছরের ২৭ নভেম্বর দুপুরে চাতলপাড় ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে হত্যার শিকার হন অটোরিকশা চালক মোক্তার। এ ঘটনায় ২ ডিসেম্বর তাঁর বাবা ইসলাম উদ্দিন বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে কামাল হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়।

মানববন্ধনে ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘কামাল হোসেন পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যার নির্দেশ দেয়। হত্যার পর থেকেই সে ও তাঁর লোকজন মামলা আপস করতে আমাদের চাপ দিচ্ছে। রাজি না হলে আমাকে ও আমার বড় ছেলেকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’ পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে তারা আদালতে পৃথক আবেদনও করেছেন বলেও জানান তিনি। 

অন্য বক্তারা বলেন, দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে মুক্তার হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড এই অঞ্চলে কখনও হয়নি। মামলার প্রধান আসামি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারা সব  হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। 

আরও বক্তব্য দেন মোক্তারের মা মাজেদা বেগম, ভাই আক্তার হোসেন, প্রতিবেশী এম এ ফাহাদ, জহিরুল ইসলাম, ফাহিম মিয়া। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল গ্রামের আঞ্চলিক সড়ক প্রদক্ষিণ করে। 

এদিকে মোক্তার হত্যাকাণ্ডের পর মামলার বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ এনে পাল্টা মামলা করেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামাল হোসেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত করে পিবিআই। তাদের তদন্তে উল্লেখ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে লুটপাট করা হয়েছে। তবে নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা এতে জড়িত, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কারণ লুটপাটের সময় তাঁর পরিবারের লোকজন মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদরে অবস্থান করছিলেন। 

নাসিরনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম বলেন, অটোরিকশা চালক মোক্তার হত্যার ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। অন্যদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।
 

আরও পড়ুন

×