ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

করোনা চিকিৎসায় অকুতোভয় যোদ্ধা ডা. মিজান

করোনা চিকিৎসায় অকুতোভয় যোদ্ধা ডা. মিজান
×

ডা. এএনএম মিজানুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২০ | ০৯:২১

করোনা চিকিৎসায় অকুতোভয় যোদ্ধা হিসেবে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন নরসিংদী ১০০ শয্যা জেলা হাসপাতালের (কভিড ডেডিকেটেড) হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এএনএম মিজানুর রহমান। এরই মধ্যে তিনি ও তার সহকর্মীদের সেবায় সুস্থ হয়ে কভিড ডেডিকেটেড জেলা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন প্রায় দুইশ' করোনা রোগী।

জানা যায়, করোনা পরিস্থিতির প্রায় শুরু থেকে নরসিংদীতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ায় জেলা হাসপাতালটিকে কভিড হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়। এর পর ডা. মিজানকে এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরিবার ছেড়ে রাত-দিন করোনা রোগীদের সেবায় নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। যার ফলে নরসিংদীর সব মানুষের কাছে প্রশংসিত হন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মিজান।

সারাদেশে করোনা পরিস্থিতি যখন ভয়াবহ, তখন নরসিংদীর অবস্থান বিভিন্ন জেলার মধ্যে ছিল পঞ্চম। সে সময় জেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যেত, করোনা উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষা করাতে আসা রোগীদের দীর্ঘ লাইন। স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের নমুনা সংগ্রহ করছেন। আর ডা. মিজানসহ তার সহকর্মীরা সবাইকে তদারকি করছেন। গত এপ্রিলের ৬ তারিখে নরসিংদীতে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তার ঠিক দু'দিন পর জেলা হাসপাতালের মালি জুয়েল মিয়া করোনায় আক্রান্ত হন। এরপর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় রোগী দেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলেও সব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে নিয়ে করোনা রোগীদের নিরলসভাবে সেবা দিয়ে মানবিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করেন এই চিকিৎসক।

নরসিংদী এই হাসপাতাল থেকে এ পর্যন্ত ১৮৬ জন করোনা রোগী সেবা নিয়েছেন। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান স্বাভাবিক হতে থাকলেও এ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা আগের মতোই নিরলসভাবেই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

নরসিংদী করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এমন একজন নরসিংদী জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আরএমও ডা. মিজানুর রহমান একজন মানবিক ডাক্তার। তিনি জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে মানবসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি প্রতিদিনই খোঁজখবর নিতে আসতেন। খুব কাছ থেকে কুশলাদি জিজ্ঞেস করতেন। এ ছাড়া মোবাইল ফোনেও আমিসহ অন্য রোগীদের কাছ থেকে সার্বিক বিষয়াদি জানতে চাইতেন। চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি আমাদের মনোবল শক্ত করতে পরামর্শসহ বেঁচে থাকার প্রেরণা জুগিয়েছেন। মানসিকভাবে চাঙ্গা রেখে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছেন।

ডা. মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, আমাদের হাসপাতালে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন করোনা পরীক্ষা করাতে আসতেন। কিন্তু আমরা পরীক্ষা করাতে পারতাম ৪০-৫০ জনের মতো। আরেকটু বেশি পরীক্ষা করাতে পারলে রোগী শনাক্ত বেশি হতো। আমাদের এখানে আইসিইউ, পিসিআর ল্যাব, সেন্ট্রাল অপিজেনের দরকার। নরসিংদীর বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল কাদির মোল্লার অর্থায়ন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিএমএর সহযোগিতায় সেন্ট্রাল অপিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। এ কাজ শেষ হলে আমরা রোগীদের আরও ভালো সেবা দিতে পারব।

আরও পড়ুন

×