ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঝড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন টানা দুর্ভোগে দুই উপজেলা

ঝড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন  টানা দুর্ভোগে দুই উপজেলা
×

বিয়ানীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

কালবৈশাখী ঝড় আর প্রবল বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চল। যার মধ্যে বেশি সংকটে পড়েছেন বিয়ানীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জের বাসিন্দারা। ওই অঞ্চলে প্রতিদিন ঝড়-বৃষ্টি থাকায় পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হচ্ছে না।

ঝড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সঞ্চালন লাইন এবং খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে পল্লী বিদ্যুতের সেবা। এমন পরিস্থিতিতে বিয়ানীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সর্বশেষ তথ্য বলছে, বিয়ানীবাজারের বেশ কিছু এলাকায় লোডশেডিং ছিল ৩০ থেকে ৪০ ঘণ্টা করে।
বিয়ানীবাজারে গত এক সপ্তাহ ধরে কালবৈশাখী বিদ্যুৎ সরবরাহ ও  সঞ্চালন লাইন তছনছ করে দিয়েছে। এর ফলে উপজেলার ৬২ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়েছেন। কোনো কোনো এলাকা এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। পল্লী বিদ্যুতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, ঝড়ের ঝাপটায় সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর কাজ করা হয়। কিছুক্ষণ পর আবার ঝড় এলে লাইন ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। অনেক স্থানে খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় কয়েক গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দাখিল পরীক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম সেবুল বলে, এক সপ্তাহ থেকে বিদ্যুৎ নেই বলা চলে। এর মধ্যে এক-দুই বার বিদ্যুৎ এলেও লোডশেডিংয়ের কারণে একটানা এক ঘণ্টাও ছিল না। তার ওপর প্রতিদিন প্রচণ্ড ঝড়। পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হিমশিম খাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় মোমবাতিই ভরসা। 
পল্লী বিদ্যুতের বিয়ানীবাজার জোনাল অফিস জানায়, বিয়ানীবাজারে পল্লী বিদ্যুতের ৬২ হাজার ৮৯৪ জন গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে ৫৪ হাজার ৯১৫ জন আবাসিক এবং বাণিজ্যিক গ্রাহক ৭ হাজার ৯৭৯ জন। বিশাল এই গ্রাহক গোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে ২৫ থেকে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন থাকলেও গত এক সপ্তাহ ধরে কালবৈশাখীর কারণে সঞ্চালন ও সরবরাহ লাইন বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিদ্যুৎকর্মীরা স্বাভাবিক পর্যায়ে কাজ করতে পারছেন না।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিস জানায়, এবার প্রতিদিন কালবৈশাখীর কারণে গ্রিড স্টেশন থেকে আসা সঞ্চালন লাইন এবং সাবস্টেশন থেকে গ্রাহক পর্যায়ে যাওয়া সরবরাহ লাইন ও তারের খুঁটি ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিদ্যুৎকর্মী বলেন, দিন-রাত কাজ করেও কূল পাচ্ছি না। রোববার তিলপাড়া ইউনিয়নের মাটিঝুরা ও তিলপাড়া হাওরে ভেঙে পড়া খুঁটি ও লাইন মেরামত করে তিন ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হয়। ভোরে পুরো উপজেলার ওপর দিয়ে কালবৈশাখী সব তছনছ করে দিয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ মাথিউরার অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঝড় এত বেশি হচ্ছে যে, কাজ করেও গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করা যাচ্ছে না। গত এক সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন ঝড়ে বিদ্যুতের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হয়। 

পল্লী বিদ্যুতের বিয়ানীবাজার জোনাল অফিসের এজিএম মাহমুদুল হাসান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার ওপর কারও হাত নেই। প্রতিদিন ঝড়ের কারণে সরবরাহ ও সঞ্চালন লাইনে যে ক্ষতি হচ্ছে সেগুলো মেরামত করে আংশিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ফের ঝড়ে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। 
এদিকে একই অবস্থা সিলেটের আরেক উপজেলা ফেঞ্চুগঞ্জের। ৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় উপজেলায় চলছে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং। সেই সঙ্গে কালবৈশাখীতে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাপক বেড়েছে ভোগান্তি।
উপজেলার কলকারখানা, ব্যাংক, বীমা, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিঘ্নিত হচ্ছে জরুরি কাজ। গভীর রাতে ও ভোর বেলা লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিশু ও বয়স্করা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন ব্যবস্থাও।
 

আরও পড়ুন

×