ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

এক মাসেও চালু হয়নি ক্যামেলিয়া হাসপাতাল

ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় হামলা-ভাঙচুরের জের

এক মাসেও চালু হয়নি ক্যামেলিয়া হাসপাতাল
×

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানে অবস্থিত একমাত্র চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালের কার্যক্রম এখনও চালু হয়নি।
এত দীর্ঘ সময় হাসপাতাল বন্ধ থাকায় বাগানের লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এদিকে হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, চিকিৎসকরা এখনও এই হাসপাতালে নিরাপদ বোধ করছেন না। তারা না আসায় সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। এই এক মাস সময়ের মধ্যে ন্যূনতম চিকিৎসাসহায়তা না পেয়ে চলে গেছেন এমন অন্তত ১০ জনের খবর পাওয়া গেছে।
১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ডানকানের চা বাগানের কর্মীদের জন্য একটি প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে মেডিসিন, সার্জারি, অর্থোপেডিকস, রেডিওলজি এবং প্রসূতি বিভাগের সুবিধা এখানে ছিল। এতে করে চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত বাগানের বাসিন্দাদের উদ্বেগ বাড়ছে। হাসপাতালটি পুনরায় চালুর বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি।
চলতি বছরের ২৭ মার্চ ওই হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া চা শ্রমিকের সন্তান ঐশী রবিদাস মারা যায়। এ ঘটনার পরপরই ওই শিশুর পরিবার দাবি তোলে ভুল চিকিৎসায় তাদের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।

এ কথা ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা চিকিৎসাকেন্দ্রটির চিকিৎসক ও স্টাফদের অবরুদ্ধ করে হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর করে। এরপর থেকে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার পর চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসার অভাবে গত এক মাসে চা বাগানের অন্তত ১০ জন রোগী মারা গেছেন। ২৫ এপ্রিল শমশেরনগর চা বাগানের রবি চাষা স্ট্রোক করে মারা যান। একইভাবে অনিল রেলি, মাধুরী সাহা, লক্ষ্মী সাহা, ডবলছড়া চা বাগানের জুগল মৃর্ধা, কানিহাটি চা বাগানের বাসন্তী রবিদাসসহ অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সে সময় তাদের হাসপাতালে আনার সুযোগ পায়নি পরিবার।

চিকিৎসাবঞ্চিত চা শ্রমিকেরা জানান, গত এক মাস ধরে হাসপাতালটি বন্ধ রয়েছে। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের প্রায় ৩৫টি বাগানের চা জনগোষ্ঠী এই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন। হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চা বাগানের লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। গত এক মাসে স্ট্রোক করে অন্তত ১০ জন মারা গেছেন। হাসপাতাল চালু থাকলে হয়তো এখানে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারতেন।  হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটি ইংল্যান্ড থেকে ক্যামেলিয়া ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত। সেখান থেকেই সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
চা শ্রমিকনেতা ও শমশেরনগর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৩৫টি চা বাগানের লক্ষাধিক চা জনগোষ্ঠীর সদস্য চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। টাকার অভাবে বেশির ভাগ মানুষ বাইরে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন না। শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালটি দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করা প্রয়োজন। ডানকান ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ ইংল্যান্ড থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। 
 

আরও পড়ুন

×