বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার চা পাতা
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
তীব্র লোডশেডিংয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার চা শিল্পে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে চা উৎপাদন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখানকার বাগানগুলোর আনুমানিক দেড় কোটি টাকার কাঁচা চা পাতা কারখানায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) অধীনে থাকা চা বাগানগুলোতে গত পাঁচ দিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ তলানিতে পৌঁছেছে। সময়মতো প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে এনটিসির পাঁচটি চা বাগানে উত্তোলনের পর স্তূপ করে রাখা প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের কাঁচা চা পাতা নষ্ট হচ্ছে। ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে শিল্প।
জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার এনটিসির পাত্রখোলা, মাধবপুর, কুরমা, চাম্পারায় ও মদনমোহনপুর চা বাগানে সম্প্রতি উত্তোলিত আড়াই লাখ কেজি কাঁচা চা পাতা ইতোমধ্যে নষ্ট হয়েছে। বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া গেলে এগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ৬০ হাজার কেজি তৈরি চা হতো। যার বাজার মূল্য দেড় কোটি টাকা হবে। তীব্র লোডশেডিংয়ে চাবাগানগুলোর একদিকে কাঁচা পাতা নষ্ট হয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে।
কমলগঞ্জ উপজেলায় এনটিসি, ডানকান ব্রাদার্স, চা বোর্ড, দেউন্দি টি কোম্পানিসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন ও ফাঁড়ি বাগান মিলিয়ে ২২টি চা বাগান রয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে চা বাগানের উৎপাদন ব্যাহত ও ক্ষতির মুখে পড়েছে। এনটিসির সূত্র জানায়, ১৩ এপ্রিল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে বাগানে। ২৫ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত গড়ে সাড়ে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল। এতে চা কারখানাগুলোর উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষের মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাসের মোবাইল ফোনে কল করে তাঁকেও পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- বিদ্যুৎ
