সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি, তরুণ আটক
ফরিদপুর বিআরটিএ অফিসে আটক জনি বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ২১:০২
ফরিদপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে জনি বিশ্বাস (২৪) নামের এক তরুণের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ফরিদপুর কার্যালয়ে তিনি চাঁদা না পেয়ে কর্মকর্তার টেবিল ভাঙচুর করেন। এমন অভিযোগের পর জনিকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
জনি বিশ্বাস ফরিদপুর শহরতলির বিলনালিয়া গ্রামের কাদের বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ফরিদপুর শহরের ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
বিআরটিএ ফরিদপুর কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসানের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করেই জনি বিশ্বাস তাঁর কক্ষে ঢুকে পড়েন। তিনি নিজেকে সাপ্তাহিক বাংলা সংবাদ পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আপনি দুর্নীতি করে অনেক টাকা কামিয়েছেন। আপনাকে নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে। আমাকে ২০ হাজার টাকা দেন। তাহলে আমি আপনার বিরুদ্ধে লেখালেখি করব না।’
মেহেদী হাসান বলেন, সরাসরি চাঁদা দাবি করায় তিনি বিস্মিত হয়ে পড়েন। তিনি (জনি) সাংবাদিক কিনা চালেঞ্জ করলে উত্তেজিত হয়ে টেবিলে থাপ্পড় দিয়ে কাঁচ ভেঙে ফেলেন। এ সময় উচ্চস্বরে তিনি চিৎকারও করতে থাকেন। অফিসের অন্য কর্মীরা এসে জনিকে আটক করেন। পরে বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানালে তিনি পুলিশে খবর দেন। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ জনি বিশ্বাসকে নিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শেখ ফয়েজ আহমেদের সম্পাদিত সাপ্তাহিক বাংলা সংবাদ পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আসছেন জনি বিশ্বাস। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফয়েজ আহমেদকে গত ১৬ নভেম্বর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জনিকে আটকের সময় ধারণ করা ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা গেছে, এক মাস ধরে ওই পত্রিকায় ঢুকেছেন তিনি। এমনকি ভাঙচুরসহ অন্য অভিযোগ অস্বীকারও করেন তিনি। জনি দাবি করছিলেন, সংবাদের জন্য মোটরযান পরিদর্শকের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলেন।
তবে তাঁর এলাকার লোকজনের অভিযোগ, জনি বিশ্বাস কখনও নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা, আবার কখনও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। এভাবে নানা সময়ে মানুষকে হয়রানিতেও জড়িত তিনি। সপ্তাহ দুয়েক আগেও শহরের টেপাখোলা এলাকায় একটি ইটভাটায় গিয়ে চাঁদা দাবি করেন জনি। তখন তাঁকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেওয়া হয়।
বিআরটিএ ফরিদপুর সার্কেলের সহকারী পরিচালক পলাশ খীসা বলেন, অফিসে ঢুকে ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে জনি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানের ভাষ্য, বিআরটিএ অফিসে ভাঙচুরের খবর পেয়ে জনি বিশ্বাসকে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
