বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্যের গলায় দড়ি বেঁধে মেলার প্যান্ডেল
টাঙ্গাইলে বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্যের গলায় দড়ি বেঁধে বিসিক মেলার প্যান্ডেল তৈরি সমকাল
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৮:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বিসিক শিল্প মেলা ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠের আবক্ষ ভাস্কর্যের গলায় দড়ি বেঁধে মেলার প্যান্ডেল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল এই মেলার উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। মেলাটি ৩ মে পর্যন্ত চলে। তবে মেলার শেষের দিকে ভাস্কর্যের প্রতি এমন অবমাননাকর আচরণের ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্ক শুরু হয়।
ভাইরাল ছবিতে দেখা যায়, বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্যের গলায় দড়ি বেঁধে সেই দড়িতে স্টলের বাঁশ বাঁধা হয়েছে। ভাস্কর্যের পাশেই রয়েছে ময়লার স্তূপ, যা পুরো বিষয়টিকে আরও দৃষ্টিকটু করে তুলেছে। অনেকেই এটিকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দৌহিত্র আজাদ খান ভাসানী বলেন, টাঙ্গাইল পৌর শহীদ স্মৃতি উদ্যানে বিসিক শিল্প মেলা চললেও পাশেই মহান মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠের আবক্ষ ভাস্কর্য অবহেলায় পড়ে থাকা লজ্জাজনক। স্বাধীনতার জন্য যারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো নৈতিক দায়িত্ব। উন্নয়ন ও আয়োজনের পাশাপাশি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করা না গেলে আমাদের চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতা আল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘যাঁদের রক্তে এই দেশ স্বাধীন হলো, মেলার ব্যবসার জন্য আজ তাঁদের গলায় দড়ি? এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এই ধৃষ্টতা বন্ধ করে ক্ষমা চাইতে হবে।’
বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা মীর নাসিমুল হক জানান, টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতিসৌধ ও সাত বীরশ্রেষ্ঠের আবক্ষ ভাস্কর্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিসিকের মেলার আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্যের গলায় মেলার স্টলের দড়ি বাঁধা হয়েছে এবং সেখানে কাপড় ঝুলানো হচ্ছে, পাশেই রয়েছে ময়লার স্তূপ। এটি শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, বরং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বীরদের প্রতি অসম্মান।
কবি ও কলামিস্ট এনায়েত করিম বলেন, বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্যের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু অবহেলা নয়, আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতি চরম অসম্মান। সাংস্কৃতিক সংগঠক সাজ্জাদ খোশনবিশ বলেন, ‘এই ঘটনা প্রমাণ করে আমরা জাতি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কতটা ধারণ করতে পেরেছি, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’
বিসিক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শাহনাজ বেগম বলেন, ‘মেলার ৯ দিনের মাথায় কে বা কারা এই কাজ করেছে জানা নেই। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’
- বিষয় :
- বীরশ্রেষ্ঠ
