সমবায় কর্মকর্তা অজিত সাময়িক বরখাস্ত
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৮:৪৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
হানি ট্র্যাপ সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে তাহিরপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের অফিস সহায়ক অজিত চন্দ্র দাসকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মো. সেলিম ফকির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে অজিত চন্দ্রকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, যেহেতু অজিত চন্দ্র দাস, অফিস সহায়ক, উপজেলা সমবায় কার্যালয়, তাহিরপুর, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্তব্যরত অবস্থায় সুনামগঞ্জ থানায় দায়ের করা পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেপ্তার; সেহেতু সরকারি চাকরির বিধান অনুসারে তাকে নির্ধারিত পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
কয়েক মাস ধরেই সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় হানি ট্র্যাপের সদস্যদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এক পর্যায়ে এ চক্রের সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পুলিশ এই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। হানি ট্র্যাপে ফেলে বিবস্ত্র করে মারধরের ভিডিও ধারণের পর সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ পেয়ে গত ১৯ এপ্রিল আটক করা হয় হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য সরকারি কর্মচারী শহরের ধোপাখালীর বাসিন্দা অজিত দাস ও জামালগঞ্জের যুবতী তুলনা আক্তারকে। এই সংবাদ প্রচারের পর গত ২০ এপ্রিল থানায় আসেন আরেক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। তিনিও একই হানি ট্র্যাপের শিকার হয়ে ছয় লাখ টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে ও ৩৫ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে দিয়েছেন এই চক্রকে।
পুলিশ বলছে, হানি ট্র্যাপের শিকার হয়তো হয়েছেন আরও অনেকে। লোকলজ্জার ভয়ে পুলিশকে নাও জানাতে পারেন। জানা যায়, ওই ব্যবসায়ীকে ট্র্যাপে ফেলে বিবস্ত্র করে চালানো হয় নির্যাতন। বিবস্ত্র অবস্থায় মারধরের ভিডিও ধারণ করে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের হুমকি দিয়ে দাবি করা হয় টাকা। এভাবে বারবার টাকা দেওয়ার এক পর্যায়ে সুনামগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ী। অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সরকারি কর্মচারী অজিত দাসকে আটক করে পুলিশ।
পরে গ্রেপ্তারকৃত সমবায় কার্যালয়ে ওই সরকারি কর্মচারীকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করে চক্রের নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
- বিষয় :
- হানি ট্র্যাপ
