মায়ের জানাজায় হাতকড়া পরে অংশ নিলেন আ’লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র আইয়ুব
মায়ের জানাজায় আইয়ুব বাবুল
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬ | ২২:৪৬
মায়ের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে সাময়িক মুক্তি পেয়েছেন চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আইয়ুব বাবুল। সোমবার রাতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পটিয়ায় আনা হয়। পরে তিনি মায়ের জানাজায় অংশ নেন। জানাজা ও দাফন শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তবে হাতকড়া পরা অবস্থায় তিনি জানাজায় অংশ নেন।
পারিবারিক সূত্র ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আইয়ুব বাবুলের মা আমজুমান আরা বেগম (৭৫) সোমবার সকাল পৌনে ১২টার দিকে পটিয়া পৌরসদরের ওয়াপদা রোড এলাকায় নিজ বাসভবনে মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পর শেষবারের মতো মুখ দেখা এবং জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেন।
প্রশাসন সূত্র জানায়, রাত নয়টা থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত তাকে মুক্ত রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পুলিশি পাহারায় তাকে পটিয়া পৌরসদরের সুচক্রদণ্ডী এলাকায় আনা হয়। রাত সাড়ে নয়টার দিকে পটিয়া আদালত জামে মসজিদ চত্বরে আমজুমান আরা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন আইয়ুব বাবুল। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজা ও দাফন শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আইয়ুব বাবুলকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
জানাজায় অংশ নিয়ে আইয়ুব বাবুল মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান। তিনি বলেন, ‘মহান রাব্বুল আল-আমিন যেন আমার মাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন।’
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ‘প্যারোলে সাময়িক মুক্তির আদেশ পাওয়ার পর চট্টগ্রাম পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে আইয়ুব বাবুলকে পটিয়ায় আনা হয়। পটিয়া থানা পুলিশের নিরাপত্তার মধ্যেই তিনি তার মায়ের জানাজায় অংশ নেন। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।’
আইয়ুব বাবুল বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। পরে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম
- জানাজা
- প্যারোলে মুক্তি
- আওয়ামী লীগ
