বগুড়ায় গণশুনানি
সেই তিন ইউনিয়নের নাম নিজেদের গ্রামের নামে চায় গ্রামবাসী
ছবি-সমকাল
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ২৩:০০ | আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ | ২৩:০১
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকায় তাঁর দুই ছেলে ও বংশের নামে রাখা তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে মঙ্গলবার গুণশুনানিতে কেউ আপত্তি করেননি। তবে গণশুনানিতে অংশ নেওয়া গ্রামবাসীরা তাদের নিজ নিজ গ্রামের নামে রাখার প্রস্তাব দেন। এ কারণে একটি ইউনিয়নে আগামীকাল বৃহস্পতিবার গণশুণানি হবে।
আজ সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে প্রতিমন্ত্রীর ছোট ছেলে দিগন্তের নামে রাখা দিগন্ত ইউনিয়নের নাম বদলে গণশুনানি শুরু করা হয় স্থানীয় ভরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বারান্দায়। সেখানে ৮টি গ্রামের ১৭ হাজার ৫৫৯ বাসিন্দার মধ্যে মাত্র এক হাজার থেকে ১২ শ মানুষ উপস্থিত হন। তাদের কেউ দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আপত্তি করেননি।
রহবল এলাকার বাসিন্দারা গণশুনানি প্রত্যাখ্যান করে রহবল এলাকায় আরেকটি গণশুনানি করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। আগামীকাল সেই গণশুনানি হবে।
ভরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে গণশুনানির দায়িত্বে থাকা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় কর্মকর্তা দিগন্ত ইউনিয়নের প্রশাসক আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, গণশুনানিতে ১ হাজার ২০৮ জন নামপ্রস্তাব করায় রহবল এলাকায় আরেকটি গণশুনানির সিদ্ধন্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সীমান্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে ৮টি এলাকার নামে ইউনিয়ন পরিষদের নাম প্রস্তাব করা হলেও প্রস্তাবক ছিলেন মাত্র ৮২০ জন। অথচ ইউনিয়নটির বাসিন্দা ১৬ হাজার ২৬৭ জন। যারা প্রস্তাব করেছেন তারা তাদের গ্রামের নামেই বেশি প্রস্তাব করেছেন।
স্থানীয় জগন্নাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ওই গণশুনানিতে ১১টি গ্রামের মানুষ অংশ নেন।
ভরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গণশুনানির দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহাবুব হাসান চৌধুরী বলেন, যে এলাকার নাম বেশি প্রস্তাব পাওয়া গেছে সে নামে ইউনিয়নের নামকরণ হবে। কোন এলাকার নাম কতটা প্রস্তাব পড়েছে তা এখনও হিসাব করা হয়নি।
মীরবাড়ি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে ৬টি গ্রামের নাম প্রস্তাব করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। সেখানে ১৩টি গ্রামের মধ্যে ৩টি গ্রামের নাম বেশি প্রস্তাব পড়েছে। গ্রামগুলো হলো প্রতিমন্ত্রীর গ্রামের নামে বেতগাড়ি এবং আলিয়ারহাট ও হরিপুর। তবে সেখানে হাতে গোনা কয়েকজন মীরবাড়ির নাম বহাল রাখার প্রস্তাব করেছেন। বেতগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ গণশুনানি হয়।
ওই ইউনিয়নে গণশুনানির দায়িত্বে থাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, কোন নামে কতটি প্রস্তাব পড়েছে তা এখনও গণনা করা হয়নি। কাল গণণা করে রেজুলেশন তৈরি করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।
প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি এবং তাঁর দুই ছেলের নামের ইউনিয়নের নাম করায় বির্তক শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে নাম পরিবর্তনের জন্য এই গণশুনানি হয়।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, ‘মীরবাড়ি’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম বাতিল করে স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচিতি গুরুত্ব দিয়ে আবার নামকরণ করার প্রক্রিয়া চলছে।
