অনিয়ম-পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে সরে দাঁড়ালো জামায়াত সমর্থিত পরিষদ
চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নির্বাচন
জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’ এর সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সমকাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ১৭:১৭
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’। একইসঙ্গে বর্তমান কমিশন বাতিল করে দুই মাসের মধ্যে নতুন কমিশন গঠন করে পুনরায় নির্বাচন আয়োজনের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ বুধবার বিকেলে জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুল আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘নিরপেক্ষতা হারিয়ে নির্বাচন কমিশন একটি পক্ষকে সুবিধা দিতেই কাজ করছে। এতে সমিতির ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময় আমাদের প্রার্থীরা বাধার মুখে পড়েছেন। অনেককে কমিশন কার্যালয়ে প্রবেশ করতেও দেওয়া হয়নি। নানাভাবে আমাদের প্রার্থীদের হয়রানি ও হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তাই এমন পক্ষপাতিত্বের নির্বাচনে অংশ নেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, তপশিল অনুযায়ী ৫ মে বিকেল ৫টার মধ্যে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের কথা ছিল। কিন্তু অজানা কারণে তা করা হয়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কমিশনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। নির্বাচন না করে আপসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করার প্রস্তাব দিয়েছিল কমিশন। এতে রাজি না হওয়ায় ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ, চট্টগ্রাম’ এর প্রার্থীদের ওপর নানাভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে এ সময় দাবি করেন নেতারা।
নেতারা আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো পুলিশ ও প্রশাসনের মাধ্যমেও হয়রানির আশঙ্কা রয়েছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এই অবস্থায় ‘প্রহসনের নির্বাচন’ বর্জনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছে ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ।
প্রসঙ্গত, গত ৪ মে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। আদালত ভবনের আইনজীবী সমিতি ভবনের বার লাইব্রেরির প্রবেশমুখে এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীদের অভিযোগ, বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীরা তাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা দেন। তবে বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীরা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দল-সমর্থিত আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। এ ঘটনার প্রতিবাদে একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ-সমর্থক বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতাকর্মীরা বার লাইব্রেরির সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভও করেন। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিল জামায়াত সমর্থিত আইনজীবী প্যানেল।
