ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

মধ্যনগরের মহিষখলা সীমান্ত

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চোরাই পশুর হাট, নীরব প্রশাসন

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চোরাই পশুর হাট, নীরব প্রশাসন
×

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বসেছে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী মহিষখলা পশুর বাজার সমকাল

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতিবছরই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে বসে অবৈধ পশুর হাট জমে ওঠে। যাঁর মূল পুঁজিই হচ্ছে ভারত থেকে অবৈধ পথে আনা গরু। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় এসব হাট বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পরেও থামানো যাচ্ছে না তৎপরতা।

দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ঈদকে সামনে রেখে যেসব মৌসুমি পশুর হাট বসানো হয় তাতে পশু আসে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে। সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তাঁর প্রভাব পড়েনি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সীমান্তে। এখানকার সাপ্তাহিক হাটটি প্রতি ঈদে ব্যস্ত হয়ে ওঠে বেশি। সরকারের এই আদেশ সত্ত্বেও এমনই হাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানে। প্রকাশ্যে এসব হাট স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও শুরুতেই প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি কারও নজরে আসেনি। অনেকেই বলছেন স্থানীয় প্রশাসনকে উপেক্ষা করে হাট বসানো হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন প্রশাসন নীরব থাকে বলেই চোরাই গরুর সিন্ডিকেট সাহস পায়। এটা উপেক্ষা না সমঝোতা সেটা জানা খুব দরকার।

এদিকে সচেতন মহলে ভাষ্য, নিষিদ্ধ হাটের কার্যক্রম প্রকাশ্যে চলমান। স্থানীয় প্রশাসনের এমন নীরবতা রহস্যজনক। কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না তারা। এতে করে পশু চোরাকারবারি চক্রের সঙ্গে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার দাবি অনেকাংশেই পরিষ্কার।
প্রশাসনের এমন অপ্রত্যাশিত নীরবতায় একদিকে যেমন স্থানীয় চোরাকারবারিদের মধ্যে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু আমদানির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় খামারি ও দেশীয় গরু ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

গত রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের বৈঠক শেষে সীমান্তবর্তী এলাকার পশুর হাট এরই মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিনুর রশিদ। এর একদিন পর, গত মঙ্গলবার মহিষখলা গিয়ে দেখা যায় বাজার বসানো হয় পশুর হাট। 
১৪৩৩ বঙ্গাব্দের ১ বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত মহিষখলা বাজারটি ইজারা দেওয়ার জন্য ১ কোটি ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৬৬৮ টাকা বার্ষিক ইজারামূল্য নির্ধারণ করে পাঁচবার দরপত্র আহ্বান করে প্রশাসন। সিন্ডিকেটের কারণে কোনো দরপত্রদাতা না পাওয়ায় প্রশাসন বাজারটি ৩ বৈশাখ থেকে অবশিষ্ট সময় (৩০ চৈত্র, ১৪৩৩) খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। আর ৬১ লাখ ৪০ হাজার মূল্যে বাজারটি খাস কালেকশনে ইজারা পায় বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোক্তার হোসেন।
স্থানীয়রা জানান, এ বাজারটি সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় সহজেই অবৈধভাবে আসা ভারতীয় গরুতে ভর্তি থাকে। আর এসব অবৈধ গরুকে বৈধতা দিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রতিবছর ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্থানীয় চোরাকারবারিদদের দৌরাত্ম্য ও অবৈধ ভারতীয় গরু আমদানি করার প্রবণতা বাড়ে। ফলে স্থানীয় গরুর খামারিরা লোকসানের মুখে পড়েন। এবারও এমন আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঈদ পর্যন্ত এ পশুর হাট বন্ধ রাখার দাবি জানান স্থানীয় খামারিরা।

মহিষখলা সীমান্তের একজন সচেতন নাগরিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভারতীয় চোরাই গরুই এই পশুর হাটকে জিইয়ে রেখেছে। বছরের অধিকাংশ সময়েই চোরাচালান অব্যাহত থাকে। ঈদের সময় আরও বেশি তৎপর হয়ে ওঠে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা। চোরাচালান রোধ করা না গেলে এবং ঈদ পর্যন্ত পশুর হাটটি বন্ধ রাখতে না পারলে স্থানীয় দেশীয় গরু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মহিষখলা বাজারের ইজারাদার মোক্তার হোসেন বলেন, প্রতি মঙ্গলবার এখানে পশুর হাট বসে। আলাদা করে কোরবানির হাট বসে না। সীমান্তে পশুর হাট বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা আছে- এমনটি তিনি জানেন না। আর স্থানীয় প্রশাসনও তাঁকে কিছু জানায়নি। প্রশাসনের নির্দেশনা পেলে পশুর হাট বন্ধ রাখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, সীমান্তে পশুর হাট বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে। সে হিসেবে এটিও বন্ধ থাকবে। আগামী মঙ্গলবার ওই বাজারে পশুর হাট বসানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মহিষখলা সীমান্তের বাঙালভিটা বিওপি কমান্ডার মো. আব্দুল হান্নান বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরে চোরাচালান বন্ধে জোরদার কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে সীমান্ত ফাঁকা। এর মধ্যে দুয়েকটা চালান গেলে যেতে পারে। তবে সচেতনভাবে এই কাজ কাউকে করতে দেবেন না।

আরও পড়ুন

×