ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

মহাসড়ক যেন ধানের চাতাল বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

মহাসড়ক যেন ধানের চাতাল বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
×

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ০৮:১৬ | আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ | ০৮:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-মধ্যপাড়া-রংপুর মহাসড়কটি বর্তমানে কৃষকদের ধান-ভুট্টা মাড়াই, খড় শুকানোসহ ধানের চাতালে পরিণত হয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন টেম্পো, অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল আরোহীরা। গত এক বছরে এই সড়কে অর্ধশতাধিক দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন মারা গেছেন।  আহত হয়েছেন অন্তত শতাধিক। সর্বশেষ ৩ মে এই সড়কের পাতরাপাড়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী নিহত হন। 

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, ফুলবাড়ী থেকে মধ্যপাড়া পর্যন্ত অন্তত ১৫ কিলোমিটার সড়কজুড়ে  সারি সারি ধানের পালা। সারাক্ষণ চলছে ধান-ভুট্টার মাড়াইয়ের কাজ। শুকানো হচ্ছে ভুট্টা, ধান ও খড়। উপজেলার দলদলিয়া ডাঙ্গাপাড়া, মহেষপুর, তেঁতুলিয়া, চিলাপাড়া, ভাগলপুর, ভালকা জয়পুর, মহিষবাতান, রসুলপুরসহ প্রায় ১০ গ্রামের কৃষকরা পুরো সড়কটি দখলে নিয়ে মাঠ থেকে ধান কেটে সরাসরি মহাসড়কের ওপর পালা করে রাখছেন। এরপর চলছে যন্ত্র দিয়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ। ধান মাড়াই শেষে সড়কজুড়ে ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। এতে মহাসড়কটি সরু সড়কে পরিণত হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, লরিসহ ছোট-বড় যানবাহন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর ভুট্টা ও বোরো মৌসুম (মে-জুন) এ দুই মাস সড়কটি আশপাশের গ্রামের কৃষকদের দখলে থাকে। সড়কের ফুলবাড়ী থেকে মধ্যপাড়া পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে 
গত বছর ১৫ থেকে ২০ জন দুর্ঘটনায় হতাহতের শিকার হয়েছেন। 
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা ও আফজাল হোসেন বলেন, এই সড়কে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ ৩ মে এই মহাসড়কের পাতরাপাড়া গ্রামের মোশাররফ চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির স্ত্রী হলদিবাড়ী এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান।  ওই দুর্ঘটনায় একটি বাচ্চাও মারা যায়।

ফুলবাড়ী উপজেলার জিয়ার মোড় নামক স্থানের কৃষক আফজাল হোসেন ও নইম ইসলাম বলেন, আগের মতো বাড়ির সামনে গৃহস্থরা ফাঁকা জায়গা ফেলে রাখেন না। এ কারণে ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর জায়গার অভাবে বাধ্য হয়েই মহাসড়কের ওপরই ধান-ভুট্টা মাড়াই ও খড় শুকানোর কাজ করে থাকেন। এতে মহাসড়কের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। 
মধ্যপাড়া পাথরখনির ঠিকাদার শাহিন হোসেন ও মনোজ সাহা বলেন, ব্যবসায়িক কাজে দিনের তিন থেকে চারবার মধ্যপাড়া পাথরখনিতে মোটরসাইকেলে যাতায়াত করতে হয়। মহাসড়কের বর্তমান অবস্থার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকেন। বিশেষ করে ধান মাড়াই মৌসুমে ছোট-বড় যানবাহনগুলো প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. নূর ই আলম
খুশরোজ আহমেদ আনন্দ বলেন, ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কয়েকটি উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় পাশের পার্বতীপুর, বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলার সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন ধরনের রোগী এসে থাকে। গত এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনার শতাধিক রোগী এসেছে। এর মধ্যে পাঁচ-ছয় মারা যান। এ ছাড়া অনেক গুরুতর রোগীকে রংপুর ও দিনাজপুরে পাঠানো হয়। 
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি আ. লতিফ শাহ বলেন, ধান-ভুট্টা ও ধানের খড় মহাসড়কে শুকাতে গিয়ে রাস্তা জ্যাম করে পথচারীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না। কৃষকদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হবে।
ফুলবাড়ী সড়ক উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আমান উল্লাহ আমান বলেন, বারবার নিষেধ করার পরও কৃষকরা শুনতে চান না। ফলে সড়কে দুর্ঘটনার হার বেড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব কৃষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে। 

আরও পড়ুন

×