ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ঢাকার দোহার

তিন সন্তানকে বাঁচিয়ে আগুনে পুড়ে মারা গেলেন স্বামী-স্ত্রী

ছোট দুই মেয়ের পড়াশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন ইউএনও

তিন সন্তানকে বাঁচিয়ে আগুনে পুড়ে মারা গেলেন স্বামী-স্ত্রী
×

 দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ০৭:৩৪ | আপডেট: ১০ মে ২০২৬ | ০৭:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার দোহারের বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে বসতঘরে আগুন লেগে স্বামী ও স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রবাসফেরত সালাম শিকদারের টিন-কাঠের ঘরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন– রাধানগর গ্রামের ছদন শিকদারের ছেলে সৌদিফেরত সালাম শিকদার (৫১) ও তাঁর স্ত্রী নাছিমা বেগম (৪২)। তবে জানালার গ্রিল ভেঙে সন্তানদের বের করে দেওয়ায় বেঁচে গেছে তাদের দুই মেয়ে জান্নাতুল (১৩), খাদিজা (১১) ও নাতি আয়ান (৫)। নিহত দম্পতির বড় দুই মেয়ে সাবিনা ও শিখা উভয়েই স্বামীর বাড়িতে থাকেন। 
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মধ্যরাতে হঠাৎ ঘরে আগুন লাগলে পরিবারের সদস্যরা আটকা পড়েন। এ সময় নাছিমা শাবল দিয়ে জানালার গ্রিল ভেঙে তিন শিশুকে বাইরে বের করে দেন। সন্তানদের উদ্ধার করতে পারলেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দম্পতি ভেতর থেকে বের হতে পারেননি। খবর পেয়ে দোহার ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১২ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে টিন ও কাঠের তৈরি ঘরটির অধিকাংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘর থেকে দম্পতির দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেন। 
নিহতের বড় ভাই আয়নাল শিকদার (৬৫) জানান, রাতে হঠাৎ আর্তচিৎকার শুনে দৌড়ে বাইরে গেলে দেখতে পাই আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নাছিমা টিন-কাঠের ঘরের জালানা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। আমি সাহায্য করতে এলে ব্যর্থ হই এবং নিজেও দগ্ধ হই। চোখের সামনে তাদের আগুনে পুড়তে দেখি। 

দোহার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার তামিম হাওলাদার জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘরটি প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। মরদেহ শনাক্তের পর পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। 
আগুনের সূত্রপাত নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার অথবা মোমবাতির শিখা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এ ছাড়া সালাম শিকদারের মরদেহের ওপর বিদ্যুতের ছেঁড়া তার পড়ে থাকতে দেখা গেছে। 
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি নিহতদের ছোট দুই মেয়ের পড়াশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। 
দোহার থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, এটি একটি দুর্ঘটনা। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×