৯ বছরের শিশু হত্যা
ধর্ষণের আলামত, মামলায় আসামি নেই
রংপুর অফিস
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ২২:৫১
রংপুরের তারাগঞ্জে ৯ বছরের শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চারদিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত পাওয়ায় প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় রোববার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন। তবে মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি।
নিহত শিশুটির বাড়ি তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর কোরানীপাড়া গ্রামে। তার বাবা পেশায় কৃষক।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, লাশ উদ্ধারের সময় শিশুটির দুই চোখ মারাত্মকভাবে জখম ছিল এবং ভেতরের দিকে প্রায় এক ইঞ্চি দেবে গিয়েছিল। মাথার পেছনে রক্ত জমাট বেঁধেছিল। ডান হাত ও কনুইয়ে ছিল আঁচড়ের দাগ। তার যৌনাঙ্গ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।
তারাগঞ্জ থানার ওসি রুহুল আমিন রোববার সন্ধ্যায় বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। কারণ ঘটনাস্থলে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে ডালিয়া সেচ ক্যানেলের পাশের একটি পাটখেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
রোববার ঘটনাস্থলের আশপাশে অন্তত ১০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডালিয়া সেচ ক্যানেল এলাকা রংপুরের তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ ও নীলফামারীর সৈয়দপুর থানার সীমান্তবর্তী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদকসেবী ও অপরাধীদের বিচরণস্থলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে নিয়মিত মাদক কেনাবেচা ও সেবন চলে। নির্জন হওয়ায় স্থানটি অপরাধীদের কাছে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
স্থানীয় সমাজকর্মী সাব্বির সাগর অভিযোগ করে বলেন, তিন থানার সীমান্তবর্তী হওয়ায় ডালিয়া সেচ ক্যানেল এলাকা কার্যত মাদকসেবী ও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। আশপাশে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীও রয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন উপজেলা থেকে তরুণরা মোটরসাইকেলে করে সেখানে এসে মাদক কিনে নিয়ে যায়, কেউ আবার সেবনও করে। নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডও চলে সেখানে। তাঁর আশঙ্কা, শিশু সানজিদা মাদকাসক্ত কারও বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়ে থাকতে পারে।
শোকে ভেঙে পড়া শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মোর ময়নাক যে জানোয়ার মারছে, তার ফাঁসি চাও। কোনঠে আছে ওই জানোয়ার, তাক খুঁজে বাইর করিয়া ফাঁসিত ঝুলান।’
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি থেকে খেলতে বের হয় সানজিদা। এর আগে পারিবারিক কারণে মা তাকে কিছুটা বকাঝকা করেছিলেন। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি। পরদিন শনিবার সকালে বাড়ির অদূরে পাটখেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ডালিয়া সেচ ক্যানেল এলাকায় মাদকসেবী ও অপরাধীদের আনাগোনা থাকলেও কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে। তিন থানার সংযোগস্থল হওয়ায় অপরাধীরা সহজেই স্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে যায়। ফলে হত্যাকাণ্ডের পর এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
- বিষয় :
- শিশু হত্যা
