ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অভিযোগ কৃষকদের

খাদ্য বিভাগ উদ্যোগী হলে হাওরে ক্ষতি কমানো যেত

খাদ্য বিভাগ উদ্যোগী হলে হাওরে ক্ষতি কমানো যেত
×

ধান শুকিয়ে বস্তায় ভরছেন দুই কৃষক। গতকাল দেখার হাওরপারের ইসলামপুরে সমকাল

পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ০৭:৩৫ | আপডেট: ১০ মে ২০২৬ | ০৭:৪০

| প্রিন্ট সংস্করণ

খাদ্য বিভাগ উদ্যোগী হলে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ক্ষতি আরও কমানো যেত। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে কাঁচা ধান কিছুটা কম দামে কিনে ঠিকাদার (চালের মিলারদের দিয়ে) দিয়ে শুকানো যেত। এমন অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। কোনো কোনো উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাও টানা বৃষ্টিতে কাঁচা ধানে চারা হচ্ছে দেখে ঊর্ধ্বতনদের চিঠি দিয়ে ধান কেনার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু বড় কর্তারা তা আমলে নেননি।

ধানের দাম নেই। অন্যদিকে পানিতে হারভেস্টার চলছে না। পানিতে নেমে ধান কাটতে বেশি টাকা চাচ্ছেন শ্রমিক। এমন অবস্থায় হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন কৃষকরা। কৃষকদের এমন দুর্যোগে ফড়িয়ারা বা মিলাররাও কাঁচা ধান কেনেননি, কেউ কেউ কিনলেও মণে পাঁচ-ছয়শ টাকা দাম দিয়েছেন। কোনো উপায় না দেখে হতাশায় পড়েন কৃষকরা।

গতকাল শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, দেখার হাওরপারের ইসলামপুরের কৃষক আবু সালাম গ্রামের পাশের সড়কে শুকাতে দেওয়া ধান বস্তায় ভরছিলেন। তিনি জানান, চার একর জমি চাষ করেছিলেন। ২৮ শতাংশ ছাড়া সবটুকু পানিতে ডুবেছে।

তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ভৈরবে চাতালের অভাব নেই। সরকার আমাদের কাছ থেকে ৮০০ টাকা মণে ধান কিনে তাদের দিয়ে শুকাতে পারত। গত চার দিনের রোদে চারা গজানো ধান শুকিয়েছি। কিন্তু এই ধান কেউ কিনবে না।’

মদনপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল্লা মিয়া বলেন, এপ্রিলের শেষ দিকে খাদ্য বিভাগ ৮০০-৯০০ টাকা মণ দরে ধান কিনে নিয়ে ঠিকাদার (মিলারদের) দিয়ে শুকিয়ে নিতে পারত। তাতে খাদ্য বিভাগেরও কোনো ক্ষতি হতো না, কৃষকও বাঁচত। 

এদিকে ১২ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাদের কেউ কেউ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এমন অনুরোধ করেছেন বলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

ছাতক উপজেলা কৃষি অফিসার তৌফিক হোসেন খানের দেওয়া এরকম একটি চিঠি এই প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। ২৯ এপ্রিল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বরাবর লেখা চিঠিতে তিনি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-২০২৬ মৌসুমের আওতায় আদ্রতা ১৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৮-২৫ শতাংশ করে ধান কেনার প্রস্তাব পাঠানোর অনুরোধ জানান।

উপপরিচালককে পাঠানো চিঠিতে ওই কর্মকর্তা লেখেন, অতিমাত্রায় বৃষ্টি ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া না থাকায় কর্তন করা ধান শুকাতে সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা। আবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় ফড়িয়ারা ধানের দামও কমিয়ে দিয়েছেন। শ্রমিকের মজুরি বেশি ও ধানের দাম কম থাকায় ধান কাটতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন কৃষক।

চিঠিতে ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেশি আদ্রতাযুক্ত বোরো ধান শুকানোর ব্যবস্থা রয়েছে। কৃষি ও কৃষকের অবস্থার কথা বিবেচনা করে ধানের আদ্রতা ১৮-২৫ শতাংশ বাড়িয়ে প্রয়োজনে ধানের দাম কিছুটা সমন্বয় করে চলমান সময়ে সুনামগঞ্জে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনলে কৃষক তার ধান ৮০ শতাংশ পরিপক্ক অবস্থায় কাটতে আগ্রহী হবেন। এই চিঠি অতিরিক্ত পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চল, জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জ, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুনামগঞ্জ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছাততকে দেওয়া হয়।

ছাতক কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান বলেন, ‘কৃষকের আর্তনাদ দেখে এবং ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করতে এমন প্রস্তাব দিয়েছিলাম।’

জেলা খাদ্য কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা বিএম মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের কোনো চিঠি আমি পাইনি। তাছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত জাতীয়ভাবে নিতে হয়।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘আমরা এ ধরনের  চিঠি পাইনি। মিলারদের সঙ্গে সভায় তারা (মিলাররা) কথা দিয়েছিলেন, তারা কৃষকদের ভেজা ধান সাধ্য অনুযায়ী শুকানোর ব্যবস্থা করে দেবেন।’

আরও পড়ুন

×