একজন শ্রমিকের মজুরি দুই মণ ধানের দামের সমান
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ০৮:২০
| প্রিন্ট সংস্করণ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বাজারে বর্তমানে মোটা জাতের কাঁচা ধান বিক্রি হচ্ছে ৭৫ কেজির প্রতিবস্তা ১১০০ থেকে ১১৫০ টাকায়। অন্যদিকে, ধান কাটা বাবদ শ্রমিকেরা দৈনিক মজুরি চাচ্ছেন ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা। অর্থাৎ প্রায় দুই মণ মোটা ধানের দাম এক কৃষিশ্রমিকের দৈনিক মজুরির সমান। শ্রমিকরা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটতে চলে যাওয়ায় শ্রমিক সংকটে তাদের মজুরিও বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলার কৃষকেরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলায় বর্তমানে আগাম বোরো কাটার মৌসুম চলছে। এর মধ্যেই কয়েকদিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় ধান কাটা নিয়ে তারা বেকায়দায় পড়েছেন। বৃষ্টির ফলে জমিতে হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় ক্ষেতের পাকা ধান যেকোনো মূল্যে দ্রুত তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সুযোগে ধানকাটা শ্রমিকের দৈনিক মজুরিও বেড়ে গেছে।
উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের কৃষিশ্রমিকের সর্দার আব্দুর রহমান বলেন, ধানকাটা মৌসুমে মজুরির ভালো দাম পাওয়া যায়। গত শুক্রবার এলাকার হাসু খন্দকারের পাঁচ বিঘা জমির ধান কেটে সড়কে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য চুক্তি হয় ১৭ হাজার টাকায়। ১১ জন শ্রমিক একদিনের চুক্তিতে ধান কেটে দিয়েছেন। এতে এক-একজনের মজুরি পড়েছে ১৫৫০ টাকা করে। বছরের বাকি সময় তাদের তেমন কাজ থাকে না। এখন মজুরি ভালো পাওয়া গেলে অন্য সময় সেই টাকা কাজে লাগে।
জানা যায়, আবহাওয়ার পরিস্থিতি, ধানক্ষেতের দূরত্ব আর ক্ষেতে জমে থাকা পানির ওপর ভিত্তি করে শ্রমিকরা তাদের মজুরি হাঁকান। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শ্রমিক সংকট। সব মিলিয়ে জনপ্রতি মজুরি ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা হাঁকা হচ্ছে। কৃষকরা তাদের ক্ষেতের ধান ঘরে তুলতে চড়া পারিশ্রমিকেই শ্রমিক নিয়োগ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
তেঁতুলিয়া গ্রামের হাসু খন্দকার বলেন, ৭৫ কেজির এক বস্তা চিকন ধান বিক্রি হচ্ছে ১৭০০ টাকায়। তবে এক বস্তা মোটা ধানের দাম ১১০০ থেকে ১১৫০ টাকা বেশি দিতে চাইছেন না ক্রেতারা। ফলে ধান বিক্রি করেও খরচ উঠবে না।
ফুলবাড়ী পৌর এলাকার ধান হাটের আড়তদার ও ব্যবসায়ী লিটন প্রসাদ বলেন, বর্তমানে আগাম জাতের চিকন কাঁচা ধান ৭৫ কেজির প্রতি বস্তা ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। একই জাতের শুকনো ধান কেনাবেচা হচ্ছে ২০৫০ থেকে ২১০০ টাকা বস্তা। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে মোটা ধান বাজারে উঠলে এসব ধানের দাম আরও কমে আসতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, এ বছর উপজেলায় ১৪ হাজার ১৮৬ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৫ হাজার ৭৬০ টন ধান। আশা করা যায় উৎপাদন আরও বাড়বে।
- বিষয় :
- শ্রমিক
