ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফুটবল খেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব

হত্যার ১৮ বছর পর তিন ভাইয়ের যাবজ্জীবন

হত্যার ১৮ বছর পর তিন ভাইয়ের যাবজ্জীবন
×

ছবি: সমকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ১৭:৫২ | আপডেট: ১০ মে ২০২৬ | ১৯:০৯

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নুরুল হক নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ১৮ বছর পর মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। আলোচিত এই মামলায় তিন ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

একই সাথে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করা হয়। 

রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক ফারজানা আহমেদ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— জেলার গফরগাঁও উপজেলার শিলাসী গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের তিন ছেলে শাহবাজ মিয়া (৫৮), হানিফা (৫০) ও মো. রফিকুল ইসলাম (৫৩)। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা মূলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার নথির বরাত দিয়ে আদালতের বেঞ্চ সহকারী আব্দুল মালেক জানান, ২০০৮ সালের ১০ আগস্ট সকালে শিলাসী গ্রামে ভিক্টিম নুরুল হকের বাড়ির পাশের একটি বরই বাগানে স্থানীয় একদল ছেলে ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে ফুটবলটি নুরুল হকের বাড়ির টিনের বেড়ায় লাগলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলেদের খেলা বন্ধ করে বাগান থেকে তাড়িয়ে দেন। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছেলেদের স্বজন শাহবাজ মিয়াসহ তার পরিবারের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নুরুল হকের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় নুরুল হককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর নিহতের ছেলে কাজল মিয়া বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলায় অভিযুক্ত অপর তিন আসামিকে আদালত খালাস প্রদান করেন।

মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট এ এইচ এম মাসুদুল আলম খান তান্না বলেন, 'একটি তুচ্ছ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে একজন নিরীহ মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছিল। বিচারিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লাগলেও শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামিদের উপযুক্ত সাজা প্রদান করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বস্তি পেল। রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। মামলায় আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান।' 

আরও পড়ুন

×