বাবাকেও রাশিয়া নেওয়ার ইচ্ছা ছিল রিয়াদের
রিয়াদ রশিদ
মোস্তফা কামাল, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ | ০৭:০৭
রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত রিয়াদ রশিদের বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক মো. আব্দুর রশিদের একটিই আকুতি, সরকার যেন তাঁর ছেলের লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করে। তিনি যেন লাশটি নিজ হাতে দাফন করতে পারেন।
গতকাল রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জর জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোণা গ্রামে তাদের বাড়িতে গেলে আব্দুর রশিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই আকুতির কথা তুলে ধরেন। আব্দুর রশিদ করিমগঞ্জের জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীর চর্চার শিক্ষক ছিলেন। তিনি ২০১৭ সালের ১২ মে অবসরে গেছেন।
আব্দুর রশিদ জানান, রিয়াদ খুবই ভালো ছেলে হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। কারও সঙ্গে কখনও মনোমালিন্য হয়নি। তাঁর মৃত্যুতে এলাকার সবাই শোকগ্রস্ত। বাড়িতে প্রচুর মানুষ আসছেন সান্ত্বনা দিতে। রিয়াদ দন্ত চিকিৎসায় ডিপ্লোমা করেছিলেন। পরে নরসিংদীর একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ওয়েল্ডিং শিখে বৈধভাবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ায় যান। কিন্তু রিয়াদ যে আগের চাকরি ছেড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে চাকরি নিয়েছেন, তা তিনি জানতেন না।
গত ২৮ এপ্রিল বাবাকে ফোন করে রিয়াদ বলেছিলেন, তিনি এক জায়গায় যাচ্ছেন। সেখানে মোবাইলের নেটওয়ার্ক থাকবে না। পরে আবার যোগাযোগ করবেন। এর মধ্যে আর কোনো খবর না পেয়ে রাশিয়ায় থাকা রিয়াদের বন্ধু নরসিংদীর লিমন দত্তকে ৮ মে সন্ধ্যায় রিয়াদের ছোট ভাই পিয়াস ফোন করে ভাইয়ের খবর জানতে চাইলে লিমন বলেন, রিয়াদের আশা ছেড়ে দাও। তাঁকে আর পাওয়া যাবে না। তখনই জানা যায়, রিয়াদ ২ মে ড্রোন হামলায় মারা গেছেন।
বাবা আব্দুর রশিদ জানান, গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একজন কর্মকর্তা ফোন করে রিয়াদের পাসপোর্ট নম্বর চেয়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপে নম্বর পাঠানো হয়েছে। আব্দুর রশিদ আকুতি জানান, তিনি ছেলের লাশটি ফেরত চান, যেন নিজ হাতে দাফন করতে পারেন। তিনি ক্ষতিপূরণসহ লাশ ফেরত চান।
রিয়াদের ছোট ভাই পিয়াস জানান, গত ২৭ রমজানের দিন ইফতারের সময় রিয়াদ ফোন করে তাঁকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগদানের তথ্যটি জানিয়েছিলেন। অন্য কাউকে জানাতে বারণ করেছিলেন। রিয়াদ বলেছিলেন, এক বছর পর যখন তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে, তখন বাবাকে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে এই অর্জনটুকু বাবার হাতে তুলে দেবেন। কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।
পিয়াস আরও জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় লিমন দত্তের কাছে ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ পান তিনি। লিমন তাঁকে জানান, রিয়াদ ও রাজবাড়ীর আব্দুর রহমানসহ ছয়জনের একটি দল ফ্রন্ট লাইনে গিয়েছিলেন যুদ্ধ করতে। লিমন ছিলেন দুই কিলোমিটার দূরে। ড্রোন হামলায় রিয়াদ ও আব্দুর রহমানসহ তিনজন একেবারে ছাঁই হয়ে গেছেন। বাকি তিনজন আহত হয়েছেন। লিমন দত্তেরও পা ভেঙে গেছে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জাফরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, আব্দুর রশিদ তাঁর শিক্ষক ছিলেন। তাই রিয়াদকে অনেক আগে থেকেই চেনেন। তাঁর মতো ভালো ছেলে বিরল।
