ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ স্প্রে করে লুট, গ্রেপ্তার চক্রের ৩ সদস্য

‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ স্প্রে করে লুট, গ্রেপ্তার চক্রের ৩ সদস্য
×

ছবি: সমকাল

নওগাঁ প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ১৮:২৭ | আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ | ১৮:৩৮

‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত কেমিক্যাল দিয়ে নারীদের সম্মোহিত করে স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। 

গ্রেপ্তাররা হলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া এলাকার আবু হাসান, বাবু ও সবুজ। নওগাঁ থানায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তদন্তের সূত্র ধরে শনিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, গত কয়েক মাসে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ একটি চক্র বয়স্ক নারীদের টার্গেট করে প্রতারণামূলক অপরাধ সংঘটিত করে আসছিল। তারা কথিত ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ বা স্কোপোলামিন নামের এক ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত ও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিত।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, অপরাধীরা প্রথমে সাহায্যপ্রার্থী সেজে টার্গেট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতো। এরপর আরও দু-একজন সদস্য কথোপকথনের মাধ্যমে পরিস্থিতি তৈরি করে কৌশলে কেমিক্যাল প্রয়োগ করত। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি সাময়িকভাবে স্মৃতিভ্রংশ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলতেন এবং অপরাধীদের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের অলংকার, অর্থ এমনকি বাসার আলমারি খুলে মূল্যবান জিনিসপত্রও তুলে দিতেন।

তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নওগাঁ থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়। মামলাগুলোর তদন্তে ডিবি পুলিশ একাধিকবার নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানা যায়, চক্রটির সদস্যরা টাঙ্গাইলে একই ধরনের অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছেন, তাদের চক্রের মূল কার্যক্রম নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় পরিচালিত হয়। চক্রটির ৮ থেকে ১০টি সক্রিয় গ্রুপ রয়েছে এবং তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে একই কৌশলে অপরাধ করে থাকে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১০টি ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের সংঘবদ্ধ প্রতারণা দমনে নওগাঁ জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। জনসচেতনতার পাশাপাশি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

তিনি বয়স্ক নারীসহ সাধারণ মানুষকে অপরিচিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে যোগাযোগ করার এবং সন্দেহজনক কোনো পরিস্থিতি দেখলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

×