ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

আজ আবার শাটডাউন কর্মসূচি শুরু শিক্ষকদের

আজ আবার শাটডাউন কর্মসূচি শুরু শিক্ষকদের
×

ছবি: ফাইল

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ | ০৭:০৮

সিন্ডিকেট সভায় পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন না হওয়ায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষকরা। তারা আজ সোমবার থেকে আবারও পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ও প্রশাসনিক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। গতকাল রোববার বিকেল ৪টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পদোন্নতির দাবিতে গত ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকরা কর্মবিরতি ও প্রশাসনিক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। গত ৫ মে বিভাগীয় কমিশনারের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় সভায় জানানো হয়, ৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকরা ১০ মে পর্যন্ত একাডেমিক শাটডাউন স্থগিত করেন। তারা ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ শুরু করেন। তখনই শিক্ষকরা জানিয়ে দেন, ৯ মে সিন্ডিকেট সভায় পদোন্নতির বিষয়ে সুরাহা না হলে ফের কঠোর কর্মসূচি শুরু করবেন।

গত শনিবার বেলা ১১টায় থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেটের ৯৪তম সভা হয়। এতে সিন্ডিকেট সদস্য বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদসহ আটজন সশরীরে ও ছয়জন ভার্চুয়ালি অংশ নেন। সভায় পদোন্নতির আইনি বিষয়ে নানা যুক্তি-পাল্টা যুক্তির পর সিদ্ধান্ত হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতি অভিন্ন নীতিমালায় হবে। এ আইন বাস্তবায়নে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি প্রণয়নে দুই মাসের সময় নেওয়া হয়। আন্দোলনকারী শিক্ষকরা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেন।

সিন্ডিকেট সভার নতুন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সহযোগী অধ্যাপক কোটায় সিন্ডিকেট সদস্য তানভীর কায়সার ও প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল গতকাল দুপুরে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে দুজনই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছেন। পরে বিকেলে শিক্ষক সমাজের নামে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সোমবার (আজ) থেকে প্রশাসনিক শাটডাউনের কর্মসূচি ও উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণার তথ্য জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়, বেশির ভাগ সিন্ডিকেট সদস্যর মতামত উপেক্ষা করে উপাচার্য তাঁর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম সমকালকে বলেন, সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ববির নতুন আইন প্রণয়ন করে পদোন্নতিতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন নীতিমালা কার্যকর করা হবে। এ জন্য দুই মাস সময় নেওয়া হয়েছে। এখন শিক্ষকরা দাবি করছেন, সিদ্ধান্ত নাকি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগ সঠিক নয়। শিক্ষকরা গতকাল সারাদিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। 

দুই সদস্যের পদত্যাগের কথা স্বীকার করে উপাচার্য বলেন, সিন্ডিকেট সদস্য তানভীর কায়সার অসুস্থ। চিকিৎসা নিতে বিদেশ যাবেন। তাঁকে বলা হয়েছে, পদত্যাগপত্র গৃহীত হবে না। সুস্থ হলে ফের দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রক্টরের পদত্যাগের কথা শুনেছেন। তবে তাঁর পদত্যাগপত্র হাতে পাননি।

আরও পড়ুন

×