এক যুগেও হয়নি সংযোগ সড়ক, সেতু নিয়ে দুর্ভোগ
আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ০৮:১৯ | আপডেট: ১২ মে ২০২৬ | ১১:১০
| প্রিন্ট সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার সাহেবপুর-বন্দরভিটা এলাকায় ভেড়ামারা খালের ওপর নির্মিত একটি সেতুতে এক যুগেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এতে সেতুটির দুপাশের অন্তত ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি কাজে আসছে না। এতে মানুষকে বিকল্প কাঁচা পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে। মালপত্র আনা-নেওয়াতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে।
গত শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, খালের মাঝখানে নির্মিত সেতুটি কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। দুপাশে কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। খালে বর্তমানে পানি না থাকায় নিচে কৃষকেরা ধান চাষ করছেন। সেতুটির দুই প্রান্ত উঁচু হওয়ায় স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করছেন। গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা থেকে সেতুটি প্রায় পাঁচ ফুট উঁচু হওয়ায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না।
সাহেবপুর গ্রামের আলিমুদ্দিন বিশ্বাস জানান, সেতুতে সংযোগ সড়ক না থাকায় বন্দরভিটা, সাহেবপুর, অনুপনগর, রামনগর, মোচাইনগর, মহেশপুর, ফুলবগাদি, গাংনী, শালিকাসহ আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বন্দরভিটা এলাকার বাসিন্দা মো. আবুল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি সেতু। সেটি নির্মাণ করা হলেও ওঠানামার সড়ক না থাকায় কোনো কাজে আসছে না। এক যুগ ধরে শুধু পড়ে আছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ২১ লাখ ৬১ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মওদুদ আহমেদ বলেন, বিষয়টি তারা জেনেছেন। ইতোমধ্যে সেখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, বিষয়টি জেনে আমরা ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত সেখানে সংযোগ সড়কটি নির্মাণ করা হবে।
