পোকার আক্রমণ ও লোডশেডিংয়ে চা বাগানে উৎপাদনে ধস
পোকার আক্রমণে লালচে বর্ণ ধারণ করেছে চা বাগান। সুরমা চা বাগানের ১৪ নম্বর সেকশন সমকাল
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ০৭:৪৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে রেড স্পাইডার বা লাল মাকড়শার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। উপজেলার পাঁচটি বড় বাগানে এই পোকার বিস্তার ঘটেছে। রেড স্পাইডার চা গাছের কচি পাতার রস শুষে নেওয়ায় নতুন পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং বাগানের সবুজ চা গাছ লালচে-কালো রং ধারণ করেছে। পাশাপাশি ঘনঘন লোডশেডিংয়ে চায়ের উৎপাদন প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চা বাগান-সংশ্লিষ্টরা জানান, মে মাস থেকে সাধারণত চা পাতা সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়। এ সময় উৎপাদন বেশি হওয়ার কথা থাকলেও এবার প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আর্থিক সংকটে পড়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শ্রমিকদের রেশন, মজুরি, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বাগান সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কারখানায় নিয়মিত চা প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঁচা চা পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
গত সোমবার জগদীশপুর চা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, কারখানার মেশিন বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন। পলাশ নামে এক কর্মচারী জানান, প্রতিদিন বাগান থেকে কাঁচা পাতা আসছে। বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানা চালানো যাচ্ছে না। এতে কাঁচা পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগে কখনও এত দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে বাগান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
দেশের অন্যতম বৃহৎ সুরমা চা বাগানেও একই চিত্র দেখা গেছে। বাগানের বিস্তীর্ণ এলাকা রেড স্পাইডারের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাগানের ম্যানেজার বাবুল কুমার সরকার বলেন, আগে এই মৌসুমে প্রচুর চা পাতা সংগ্রহ হতো। এবার উৎপাদন অনেক কমে গেছে। অথচ ২ হাজার ২০০ শ্রমিকের রেশন, মজুরি ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। চা বিক্রির টাকায় এসব ব্যয় চালানো হয়। উৎপাদন কমে যাওয়ায় সংকট তীব্র হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, চায়ের উৎপাদন খরচ যেভাবে বাড়ছে, সেই তুলনায় চায়ের বাজারদর বাড়েনি। তার ওপর রোগবালাই ও বিদ্যুৎ সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সরকার প্রতি বছর চা শিল্প থেকে বিপুল রাজস্ব আয় করে। তাই শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ভর্তুকি ঋণ ও বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন।
একই ধরনের সংকট বিরাজ করছে তেলিয়াপাড়া, বৈকুণ্ঠপুর ও নোয়াপাড়া চা বাগানেও। চা শিল্প-সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে চা শিল্পে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ার পাশাপাশি দেশের চা উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বৈকুণ্ঠপুর চা বাগানের ম্যানেজার শামসুল হক ভূঁইয়া বলেন, করোনাকালে বড় ধাক্কার পর এখন পোকার আক্রমণ ও তীব্র লোডশেডিংয়ে চা-শিল্প নতুন সংকটে পড়েছে।
- বিষয় :
- কৃষি
