ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

পাঁচ দিনেও খোঁজ মেলেনি ডিপজলের, থানায় জিডি

ডিপজলকে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগ বিএসএফের বিরুদ্ধে

পাঁচ দিনেও খোঁজ মেলেনি ডিপজলের, থানায় জিডি
×

ফাইল ছবি

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৩:১৮

সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্তবর্তী উত্তরকূল তিন্নখাল এলাকা থেকে নিখোঁজ যুবক ডিপজল আহমদের (২৬) সন্ধান মেলেনি পাঁচ দিনেও। তাঁকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলি করে লাশ গুম করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করলেও অস্বীকার করেছে বিএসএফ। ফলে ডিপজলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এদিকে ডিপজলের রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

নিখোঁজ ডিপজল আহমদ জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা আহমদ আলীর ছেলে। ঘটনার চার দিন পর গত শুক্রবার জকিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বাবা।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত সোমবার ডিপজলসহ কয়েকজন সীমান্ত এলাকায় কাজের উদ্দেশ্যে যান। পরে তাঁর সঙ্গীরা ফিরে এলেও ডিপজল আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর থেকেই তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

ঘটনার পর এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে, সীমান্ত দিয়ে মহিষ আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে ডিপজল নিহত হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে নিজেদের ভূখণ্ডে নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে এ ধরনের কোনো ঘটনার তথ্য না থাকার কথা জানিয়েছে বিজিবি-১৯ ব্যাটালিয়ন। পরে তিন দিন পর বৃহস্পতিবার বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে বিজিবি। বৈঠকে বিএসএফ জানায়, ডিপজল আহমদ সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী (টিপু) বলেন, ডিপজলের সঙ্গে থাকা লোকজন জানিয়েছেন, বিএসএফ গুলি চালায় এবং গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যায়। কিন্তু তারা কেন বিষয়টি স্বীকার করছে না, সেটি বোধগম্য নয়।

পাঁচ দিন ধরে ডিপজলের কোনো সন্ধান না মেলায় স্বজন এবং এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। তারা দ্রুত তাঁর সন্ধান দাবি করছেন। এ ঘটনার জেরে সীমান্তবর্তী তিন্নখাল এলাকা থেকে রঞ্জিত দাস নামে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে স্থানীয়রা। পরে বুধবার বিজিবির মাধ্যমে তাঁকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জকিগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ডিপজলের বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি বিএসএফের কাছে আছেন, নাকি অন্য কোথাও আত্মগোপনে রয়েছেন–এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন

×