ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

লেবাননে তিন বাংলাদেশি নিহত

সংসারের অভাব ঘোচাতে গিয়ে প্রাণটাই চলে গেল তাদের

সাতক্ষীরায় তিন প্রবাসীর পরিবারে কান্না

সংসারের অভাব ঘোচাতে গিয়ে প্রাণটাই চলে গেল তাদের
×

শফিকুল ইসলাম, শুভ কুমার দাস, নাহিদুল ইসলাম

 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ০৮:০১ | আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ | ০৮:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

সংসারের অভাব ঘোচাতে গিয়ে প্রাণটাই দিয়ে দিলেন সাতক্ষীরার তিন ব্যক্তি। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়ের এলাকায় গত সোমবার দুপুরে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন তারা। নিহতরা হলেন– সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৪০), কলারোয়া উপজেলার শ্রীপ্রতিপুর গ্রামের শুভ কুমার দাস (২৮) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের কাদাকাটি গ্রামের নাহিদুল ইসলাম (২২)।

দুই মাস আগে ঋণের টাকায় ও সরকারি ভিসায় লেবাননে পাড়ি জমান তারা। তাদের মধ্যে আফসার আলীর একমাত্র সন্তান শফিক, সুরঞ্জন দাসের ছেলে শুভ এবং আবদুল কাদেরের বড় সন্তান নাহিদ।
গতকাল মঙ্গলবার শফিকের বাড়িতে দেখা যায়, স্বজনের বুকভাঙা আর্তনাদ। তাঁর স্ত্রী রুমা খাতুন কাঁদছেন আর বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা আছিয়া বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ১০ লাখ টাকার ঋণ করে গেছে, আমরা এই টাকা এখন কই পামু। এখন ছেলের লাশটা দেশে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।’
শফিকুলের বাবা আফসার আলী বলেন, ‘সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে ঋণের টাকায় বিদেশে যায় সে। এখনও কাজকাম ঠিকমতো করে উঠতে পারেনি। অভাব-অনটনের মধ্যে কোনো রকমে চলে সংসার। এখন আমার ছেলে নাই, কই যামু, কী খামু তা ভেবে পাচ্ছি না।’

ছোট মেয়ে বৃষ্টি বলে, রোববার বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয়। সোমবার সারাদিন আর কথা হয়নি। এরপর টিভির খবরে শুনলাম, লেবাননে ড্রোন পড়ে বাবা আহত হয়েছেন। সন্ধ্যার পর সেখানে একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি। লেবাননে থাকা মামা বিষয়টি আমাদের জানান।

আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউজ্জমান খান নিহতের পরিবারের বরাতে বলেন, নাহিদুল অভাবের তাড়নায় এসএসসি পাসের পর আর পড়ালেখা করতে পারেনি। জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে পাঁচ লাখ টাকার ঋণ নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমায় সে। সন্তানকে হারিয়ে শোকে বাবা-মা দিশেহার হয়ে পড়েছেন।
গত সোমবার রাতে লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চলাচলের সময় ড্রোন হামলায় নিহত শুভর বাবা সুরঞ্জন দাস বলেন, আমার ছেলে তিন বছর ধরে লেবাননে ছিল। সেখানে একটি বাড়ি ও সংলগ্ন ফলের বাগান দেখাশোনার কাজ করত। সোমবার থেকে তার সঙ্গে পরিবারে কেউ যোগাযোগ করতে পারেনি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর খবর পাই।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ যতটা সাহায্য তাদের করতে পারে, তা করা হবে। তিনজনের লাশ দেশে নিয়ে আসার ব্যাপারে প্রবাসীকল্যাণ কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আমরা আবেদন করেছি।

তীব্র নিন্দা ঢাকার
বাসস জানায়, লেবাননে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি দুই নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানোর পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেছে। লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

×