পাহাড়ি ঢলে হালুয়াঘাটে নতুন করে ৫ গ্রাম প্লাবিত
২৩০ হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে
উপজেলার রান্ধুনীকুড়া এলাকার ছবি। ছবি: সমকাল
হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ২২:১০
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে গত বুধবার ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্লাবিত এলাকাগুলোতে পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে আরও ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি কৃষি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ভুবনকুড়া, সেওলা ও মেনংছড়া নদীর পানি কিছুটা নেমে গেলেও দর্শা ও গাংগিনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে জুগলী ইউনিয়নের রান্ধুনীকুড়া, ঘিলাভুই ও সংরা এবং গাজীরভিটা ইউনিয়নের মহাজনিকান্দা ও বোয়ালমারা গ্রাম প্লাবিত হয়। এলাকা নিচু হওয়ায় বসতঘর, কাঁচা রাস্তা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর হালুয়াঘাট উপজেলায় মোট ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে গত দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে প্রায় ২৩০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে রয়েছে। দ্রুত পানি না নামলে ধান পচে যাওয়ার শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। বৃষ্টি না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ধান কাটার পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জুগলী ইউনিয়নের রান্ধুনীকুড়া এলাকার কৃষক আইন উদ্দিন বলেন, ‘সারা বছর কষ্ট করে ধারদেনা করে ৭৫ শতক জমিতে ধান চাষ করেছি। এখন কাটার মুখে সব পানির নিচে। দুই-তিন দিন পানি থাকলে সব শেষ হয়ে যাবে।’
গাজীরভিটা ইউনিয়নের মহাজনিকান্দা এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের একমাত্র ভরসা এই বোরো ধান। হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে সব তলিয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।’
জুগলী এলাকার বিএডিসি সেচ পাম্পের ম্যানেজার নুর ইসলাম বলেন, রান্ধুনীকুড়া এলাকায় প্রায় ১০০ একর জমির ধান পানির নিচে। এরা কেউ এক ছটাক ধানও কাটতে পারেনি। এখন পর্যন্ত কেউ খোঁজ নিতেও এলো না। আমরা এখন নিরুপায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, মাঠপর্যায়ের উপসহকারীরা সার্বক্ষণিক কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি নিজেও প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। গত দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রায় ২৩০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে রয়েছে। তবে নতুন করে বৃষ্টি না হলে দ্রুত পানি নেমে যাবে এবং ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
