ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এলডিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন সহস্রাধিক নেতাকর্মী

এলডিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন সহস্রাধিক নেতাকর্মী
×

ছবি: সংগৃহীত

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ২১:৪৮ | আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ | ২১:৫৫

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে ২টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের সহস্রাধিক নেতাকর্মী লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার হাশিমপুর বুলার তালুক এলাকায় এক যোগদান অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সাংসদ জসীম উদ্দীন আহমেদের হাত ধরে এলডিপির এসব নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ ঘোষণা দেন, ‘আজ থেকে চন্দনাইশে এলডিপি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।’ 

তার এই ঘোষণার পর সমাবেশস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে তার বক্তব্যকে স্বাগত জানান। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক যোগদান অনুষ্ঠান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যোগদান অনুষ্ঠানে জসীম উদ্দীন আহমেদ বলেন, আজ থেকে চন্দনাইশে এলডিপিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। আজ যেসব নেতাকর্মী যোগদান করেছেন, তারা ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছেন। তারা সবাই শুরু থেকে বিএনপির রাজনীতি করতেন। ‘কথিত মুরব্বি’র প্ররোচনায় পড়ে তারা কিছু সময়ের জন্য এলডিপিতে যুক্ত ছিলেন। আপনারা জানেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে আদর্শিত হয়ে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা আজকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, চন্দনাইশ ও আংশিক সাতকানিয়ায় অনেকে বিএনপিকে বিলুপ্ত করতে চেয়েছিল।  

তিনি আরও বলেন, ‘কর্ণেল অলি বলেছিলেন, তিনি থাকলে বিএনপি থাকবে, তিনি না থাকলে বিএনপি শেষ হয়ে যায়। অথচ আপনারা দেখুন, বিএনপির গণজোয়ার এমনভাবে সৃষ্টি হয়েছে এখন চন্দনাইশে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ বিএনপির সমর্থক। বরং আজকে এলডিপি বিলুপ্ত।’

উপজেলা এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পৌরসভার সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক আকতার উদ্দিন, গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন ইমরান, উপজেলা এলডিপির সহ-সভাপতি, সাবেক চেয়ারম্যান আবু ইউসুফসহ পৌরসভা ও ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে এলডিপির এসব নেতাকর্মীরা যোগদান করেন।

বিএনপিতে যোগদানকৃত চন্দনাইশ উপজেলা এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি ছাত্রদল করেছি, বিএনপির জন্য তিনবার জেল কেটেছি। ২০ থেকে ২৫টি মামলার শিকার হয়েছি। আমরা যে নেতার সঙ্গে ছিলাম, আমরা তাকে পিতার মতো শ্রদ্ধা করতাম। আমরা বিএনপি নামক মহাসড়কে ছিলাম, আমাদের মুরব্বি আমাদেরকে একটা গলির ভিতরে নিয়ে গিয়েছিলেন। আজকে ২০ বছর আমরা গলির ভিতরে ঘুরাফেরা করেছি।

উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হাশেম রাজু, বিএনপি নেতা আবদুল মাবুদ, মোরশেদুল আলম চৌধুরী মুন্না, সাবেক কমিশনার নুরুল কবির, সিরাজুল ইসলাম, বিএনপি আবদুর রফ, নওশা মিয়া, নুর মোহাম্মদ, সাবেক কমিশনার মাসুদুর রহমান মাসুদ, শহীদুল ইসলাম, নেছার, তরিকুল ইসলাম টুটুল প্রমুখ। 

আরও পড়ুন

×