ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অজানার সন্ধানে বাড়ি ছাড়ে ৩ কিশোর বন্ধু

অজানার সন্ধানে বাড়ি  ছাড়ে ৩ কিশোর বন্ধু
×

 কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ০৮:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

শামীম, শাওন ও তালহা তিন বন্ধু ও ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। তাদের খেলাধুলা, বেড়ানো ও দুরন্তপনা একই সঙ্গে। অজানা ও কল্পনার জগতকে জানার তীব্র ইচ্ছে তাদের। সেজন্য কয়েকমাস ধরে তারা বাড়ি ছেড়ে অজানায় হারানোর পরিকল্পনা করে। শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনামাফিক হঠাৎ একদিন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় তিন বন্ধু। তাদের হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন স্বজনরা। পরে ফেসবুকের কল্যাণেই তাদের সন্ধান পায় পুলিশ।

গত শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়ার খোকসা থেকে তাদের উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা হলো কুমারখালী উপজেলার বুজরুক দুর্গাপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে শামীম (১২)। সে কুমারখালীর এম এন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। অন্য দুজন হলো একই এলাকার সোহাগ মিয়ার ছেলে শাওন (১৩) ও তরুণ খানের ছেলে তালহা (১২)। তারা দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে দুপুরে তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। স্বজনরা সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ওইদিন রাতে কুমারখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ফেসবুকে তিনজনের ছবি ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
গত শুক্রবার রাতে মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজবাড়ীর কালুখালী থেকে ক্রিকেট খেলে ফিরছিলেন খোকসার সাতপাখিয়া এলাকার কয়েকজন তরুণ। তারা ট্রেনে তিনজনকে দেখে ফেসবুকে ছড়ানো ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর তাদের খোকসা রেলস্টেশনে নামিয়ে কুমারখালী থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে কুমারখালী থানা পুলিশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। 
শুক্রবার রাতে কুমারখালী থানা চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, ছেলেকে ফিরে পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি শামীমের বাবা আব্দুর রহিম। চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলেন, সেদিন (বৃহস্পতিবার) দুপুর পর্যন্ত একসঙ্গে দুজনে ধান কাটাকাটি করেছিলাম। পরে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। সেই ফাঁকে শামীম কিছু টাকা আর জামাকাপড় নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে থানায় জিডি করি। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া যে ছেলেটাকে ফিরে পেয়েছি। 

তিনি জানান, শামীম মাসখানেক ধরে হারিয়ে যাওয়া, পালিয়ে যাওয়া ও মরে যাওয়ার কথা বলত। হারিয়ে যাওয়ার পর ওর বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানলাম বন্ধুরা একসঙ্গে কাল্পনিক জগতে হারানোর পরিকল্পনা করেছিল।
উদ্ধার হওয়া এক শিক্ষার্থী বলে, অজানাকে জানার জন্য তারা বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল। পরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ফিরে আসার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এ ভাবনা যে ভুল ছিল সেটি এখন বুঝতে পারছে বলে মন্তব্য তাঁর। সে জানায়, কয়েকদিন ধরে তারা বিভিন্ন ট্রেনে ঘুরে বেড়িয়েছে। কাছে থাকা টাকা দিয়ে খাওয়া দাওয়া করেছে।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, মূলত শখ পূরণ ও অজানাকে জানার এক মোহে পড়ে 
ছিল তিন বন্ধু। তার জের ধরেই ওই তিন কিশোর স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। গণমাধ্যম ও ফেসবুকের সুবাদে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করে সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×