ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ‘চাঁদাবাজ’ ট্যাগের অভিযোগ

পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ‘চাঁদাবাজ’ ট্যাগের অভিযোগ
×

সংগৃহীত

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ২০:৪৩

নওগাঁর পোরশায় পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে ‘চাঁদাবাজ’ ও ‘অপহরণকারী’ হিসেবে অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এক কলেজ শিক্ষক। রোববার সকালে নওগাঁ শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন তিনি। 

অভিযোগকারী শিক্ষক মেসবাহুল হক পোরশা উপজেলার নিতপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক। তিনি জানান, ২০০৯ সালে পোরশা উপজেলায় ইটভাটা নির্মাণের উদ্দেশ্যে আশরাফুল আলম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৮ বিঘা জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেন। তখন জমিটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২১ লাখ টাকা। পরে বিভিন্ন সময়ে তিনি আশরাফুলকে মোট ১৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেন।

মেসবাহুল হকের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পরও জমিটি রেজিস্ট্রি করে দিতে নানা টালবাহানা শুরু করেন আশরাফুল। এক পর্যায়ে জানতে পারেন, একই জমি অন্যত্র বিক্রির চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের উদ্দেশ্যে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, ‘বৈঠক চলাকালে হঠাৎ পুলিশ এসে উপস্থিত হয়। পরে জানতে পারি, ৯৯৯-এ ফোন করে আমাদের বিরুদ্ধে অপহরণের মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল।’

মেসবাহুল হকের ভাষ্য, পরে স্থানীয় থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা হয়। সেখানে আশরাফুল পক্ষ ১৭ লাখ টাকার বিপরীতে মাত্র সাড়ে ৬ লাখ টাকা ফেরত দিতে চায়। তিনি সে প্রস্তাবে রাজি না হলে গত ১৩ মে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁকে ‘চাঁদাবাজ’ ও ‘অপহরণকারী’ আখ্যা দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি শিক্ষকতার পাশাপাশি ইটভাটা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পরিকল্পিতভাবে আমার সামাজিক ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়েছে। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।’

অভিযোগ বিষয়ে জানতে আশরাফুল আলমের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, ‘একজনকে আটকে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে কাউকে আটক অবস্থায় পাওয়া যায়নি। দুই পক্ষের মধ্যে জমি ও টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। অপহরণের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।’

সংবাদ সম্মেলনে পোরশা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল জাভেদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
 

আরও পড়ুন

×