‘এতদিনে আমাগো কষ্ট কিছুটা অইলেও কমছে’
মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের বল্লারটেকি এলাকায় ভাসমান সেতু। ছবি: সমকাল
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ | ১২:৩১
মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের তরফপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে বংশাই নদী। যার পশ্চিমপাড়ে জনবসতি না থাকলেও রয়েছে কৃষিজমি। আগে ধান কেটে পানিতে ভাসিয়ে নদী পার হতে হতো। নদী পার হওয়ার জন্য টাঙানো রশি ধরেও পার হতে হতো। এ জন্য অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। কৃষকের এমন দুর্ভোগ নিরসনে বল্লারটেকি এলাকায় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর অর্থায়নে একটি ভাসমান সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, বংশাই নদীর কারণে তরফপুর গ্রামটি বিভক্ত। নদীর পশ্চিমপাড়ে জনবসতি না থাকলেও কৃষি জমি রয়েছে। জমিগুলোতে ধান, সরিষা ও কিছু জায়গায় আলু চাষ হয়। এসব ফসল ঘরে তুলতে তরফপুর গ্রামের কৃষকদের কষ্টের সীমা ছিল না। চাষাবাদের সুবিধার জন্য প্রতিবছর গ্রামবাসীর অর্থায়নে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হতো। বর্ষায় পানি বাড়লে স্রোতে সাঁকো ভেঙে যেত। এ জন্য দুই পারে খুঁটির সঙ্গে রশি বেঁধে তা ধরে ধান পশ্চিমপার থেকে পূর্বপারে আনা হতো। এই সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিতে বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধির কাছে আবেদন করেছেন ওই এলাকার কৃষকরা। অবশেষে একটি ভাসমান সেতু নির্মাণ করে দেওয়ায় দুর্ভোগ কমে গেছে তাদের। গত ১০ মে সেতুটি উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর স্ত্রী ফাতেমা আজাদ।
সরেজমিন দেখা গেছে, কৃষকরা হেঁটে ভাসমান সেতুর ওপর দিয়ে ধানের বোঝা নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। কাঁধে ধানের বোঝা নিয়ে পূর্বপারে আসছেন। তবু সকলের মুখেই হাসি। তরফপুর গ্রামের পাথালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইলিম উদ্দিন সেতু পার হয়ে বলেন, ‘এতদিনে আমাগো কষ্ট কিছুটা অইলেও কমছে। জমির ধান পাকছে কিনা তা দেখে খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে পারছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা বাছেদ মিয়া জানান, প্রায় ২১৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে চার ফুট প্রস্থের সেতুটি তৈরিতে ৬৪টি প্লাস্টিকের ড্রাম, ১৩ ফুট দৈর্ঘ্যের ৩৫টি লোহার অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করা হয়েছে। ফাতেমা আজাদ বলেন, ‘ভাসমান সেতু হওয়াতে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে কৃষকদের কষ্ট কিছুটা হলেও দূর হয়েছে।’
- বিষয় :
- টাঙ্গাইল
