ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

ময়মনসিংহ-ধোবাউড়া সড়ক

বালুবাহী ট্রাকের ভারে ভেঙে পড়ল বেইলি ব্রিজ

বালুবাহী ট্রাকের ভারে ভেঙে পড়ল বেইলি ব্রিজ
×

ময়মনসিংহ-ধোবাউড়া সড়কে গতকাল রোববার ভোরে বালুবাহী ট্রাকের ভারে ভেঙে পড়ে বেইলি ব্রিজটি। ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা এলাকায়। ছবি: সমকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ০৯:০৯

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা এলাকায় কংস নদীর ওপর নির্মিত একটি স্টিলের বেইলি ব্রিজ বালুবাহী ট্রাকের ভরে ভেঙে পড়েছে। এতে ধোবাউড়ার সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

গতকাল রোববার ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এর ফলে ধোবাউড়া ও গোয়াতলা এলাকার লাখো মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে স্থানীয় কৃষিপণ্য, সবজি এবং মাছ ব্যবসায়ীদের ওপর।

জানা গেছে, ধোবাউড়া-ময়মনসিংহ সড়কের গোয়াতলা বাজার এলাকায় কংস নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে বারবার জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে যানবাহন চলাচল সচল রাখা হচ্ছিল। গতকাল রোববার ভোর ৪টার দিকে একটি ভারী বালুভর্তি ট্রাক পার হওয়ার সময় বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে ব্রিজটি। দুর্ঘটনায় ট্রাকের চালক ও হেলপার আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিক তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় ময়মনসিংহ-ধোবাউড়া সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ধোবাউড়া অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য, সবজি এবং মাছ জেলা সদর বা রাজধানীতে যথাসময়ে পাঠাতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। বিকল্প রুটে ঘুরে গেলে ৪০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হয়।

ধোবাউড়ার কলসিন্দুর ও গোয়াতলা এলাকার মাছ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, তাদের এই অঞ্চলের প্রধান ব্যবসাই মাছের। প্রতিদিন ভোরে কয়েক ট্রাক তাজা মাছ ময়মনসিংহের আড়ত হয়ে ঢাকায় যায়। ব্রিজ ভাঙার কারণে মাছের গাড়ি আটকা পড়েছে। বিকল্প পথে ঘুরিয়ে নিতে নিতে অর্ধেক মাছ পথেই মরে যাবে। আর জ্যান্ত মাছ মরে গেলে আড়তে অর্ধেক দামও পাওয়া যায় না। এক দিনেই লাখ টাকার ওপরে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

গোয়াতলা বাজারের পাইকারি সবজি বিক্রেতা আলতাফ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, রোববার হাটের দিন ছিল। করলা, বেগুন আর শসা নিয়ে ট্রাক বোঝাই করেছিলেন তিনি। কিন্তু ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় সেগুলো নিয়ে বসে আছেন। সবজি তো কাঁচা পণ্য, এক দিন আটকে থাকলে সব পচে নষ্ট হয়ে যাবে। বিকল্প রাস্তা দিয়ে ঘুরে যেতে দ্বিগুণ ভাড়া চাচ্ছেন চালকরা, যা দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।

স্থানীয় ধান ব্যবসায়ী আবদুল কুদ্দুস জানান, এই মৌসুমের ধান বিভিন্ন চাতালে এবং ময়মনসিংহের বড় বড় মিলে পাঠানোর কাজ চলছিল। বেইলি ব্রিজটি যে কোনো সময় ভাঙবে তা জানতেন তারা, কারণ এটি দীর্ঘদিন ধরে নড়বড়ে ছিল। এখন সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় তাদের ধান পরিবহন খরচ বস্তাপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে যাবে। এর প্রভাব সরাসরি কৃষকদের ওপর গিয়ে পড়বে।

ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশাররফ হোসাইন বলেন, রোববার ভোর ৪টার দিকে ধোবাউড়া থেকে ময়মনসিংহগামী একটি বালুভর্তি ট্রাকের চাপে গোয়াতলা কংস নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এতে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন তিনি। উপজেলা প্রকৌশলীকে দ্রুত প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা বা ডাইভারশন নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, তিন দিন ধরে ব্রিজটির মেরামত কাজ চলছিল। তবে সংস্কার কাজ চলাকালীনই ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে শেষ পর্যন্ত ব্রিজটি ভেঙে পড়ে।

আরও পড়ুন

×