ফিলিপাইনে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ধসে পড়েছে একাধিক ভবন
জেনারেল সান্তোস সিটির বেশ কয়েকটি ভবন ও বিপণিবিতান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছবি: ফিলিপাইন ইনফরমেশন এজেন্সি
বিবিসি
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ০৯:১৭
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে সংঘটিত এ ভূমিকম্পে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শক্তিশালী এ কম্পনের ফলে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং বিভিন্ন সড়কে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের নিকটবর্তী জেনারেল সান্তোস সিটি থেকে।
ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি (ফিভলকস) জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত অন্তত ১৬টি আফটারশক বা অনুকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। এসব অনুকম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ১ দশমিক ৩ থেকে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৭ পর্যন্ত। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সরকারি বার্তা সংস্থা ফিলিপাইন ইনফরমেশন এজেন্সির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, জেনারেল সান্তোস সিটির বেশ কয়েকটি ভবন ও বিপণিবিতান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেশটির জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন ‘জলিবি’র অন্তত দুটি শাখা ধসে পড়ার দৃশ্যও দেখা যায়। এ সময় আতঙ্কিত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি করতে দেখা গেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত একজন নিহত এবং চারজন গুরুতর আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। জেনারেল সান্তোস সিটির মাস্টার সার্জেন্ট রবার্ট ডাগন জানান, ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো জানা যায়নি। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা।
এদিকে, দুর্যোগের পরপরই দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ফিলিপাইন রেড ক্রস। সংস্থাটির উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা মূল্যায়ন করছেন। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের কাজ চলছে।
ফিলিপাইনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রসৈকত ও নিম্নাঞ্চল এড়িয়ে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে অবস্থানের পরামর্শ দিয়েছে।
