ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

ময়মনসিংহের নান্দাইল

৮২ প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার শঙ্কা

৮২ প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার শঙ্কা
×

নান্দাইল উপজেলার দেউলডাংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন ভবন। ছবি: সমকাল

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ | ১২:৩৩

নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও ৩৪ কোটি টাকায় ৮২টি প্রকল্পের অধিকাংশ এখনও নির্মাণাধীন রয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে টাকা ফেরত যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর জন্য ঠিকাদারদের গাফিলতিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ। তবে নির্মাণ কাজের দীর্ঘসূত্রিতায় বিদ্যালয়ে পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

নান্দাইল উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জিপিএস প্রকল্পের অধীন ২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবন নির্মিত হচ্ছে। পিইডিপি প্রকল্পের অধীন ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০টি স্কুল ভবন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। একই প্রকল্পের অধীন ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রধান শিক্ষকের ৪৪টি কক্ষ নির্মাণ কাজও চলছে। ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮২টি প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্ধারিত তারিখ ইতোমধ্যে চলে গেলেও অধিকাংশ কাজ শেষ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মে মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে টাকা ফেরত যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর বালিয়া পুকুর পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে একতলা একটি ভবন নির্মাণ কাজ শুধু পিলারে আটকে আছে। পিলারে থাকা রডগুলোতে মরিচা ধরেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৯ মে ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ করার কথা ছিল। কাজটি করছে তোশিবা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম (বড় সাইফুল) জানান, জায়গা জটিলতায় সময়মতো কাজ শুরু করা যায়নি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার পর কাজ শুরু করেছেন।

দেউলডাংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দুইতলা ভিত্তির ওপর একতলা ভবন নির্মাণ কাজ আড়াই বছর ধরে ইটের গাঁথুনিতে থমকে আছে। অথচ ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর কাজ শুরু হয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার কথা। প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম আকন্দ বলেন, নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে। গত শনিবার ঠিকাদার আব্দুল গনি ভূঁইয়া বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে কাজে কিছুটা দেরি হয়েছে, আগামীকাল (রোববার) থেকে পুনরায় কাজ শুরু হবে।’ তবে এই প্রতিবেদক খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, গতকাল রোববার কাজ শুরু হয়নি।

রাজগাতি ইউনিয়নের দক্ষিণ কয়রাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে মাঠের দক্ষিণপাশে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা একটি ভবন নির্মাণকাজ চলছে। ২০২৪ সালের ১২ মার্চ মেসার্স আনোয়ারা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়ে কাজ শুরু করলেও নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি। এরপর মেয়াদ বাড়িয়ে নিলেও দুই পাশের প্রাচীরসহ প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, কাজের যে গতি তাতে বাকি কাজ আগামী ছয় মাসেও শেষ হবে না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোমানা আক্তার বলেন, শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম (ছোট সাইফুল) জানান, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়াসহ মাঝখানে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কাজে বিলম্ব হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে ভবনের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ।

নান্দাইল পৌরশহরের চন্ডীপাশা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ১ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ভবন নির্মাণকাজ চলছে। ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৫ মে শেষ করার থাকলেও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। কাজটি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাঈম এন্টারপ্রাইজ।

চন্ডীপাশা ইউনিয়নের কুরাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভবনের ৬০ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। অথচ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কাজ শেষ করার কথা ছিল।

আরও কয়েকটি প্রকল্পের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের বাকি কয়েকদিনে ওইসব প্রকল্পের কাজ শেষ করা মোটেও সম্ভব হবে না। ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে কাজ শেষ না হলে টাকা ফেরত যাবে। তবে ঠিকাদার আমরু মিয়া জানান, তিনি পাঁচটি বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন। ইতোমধ্যে প্রাচীরগুলোর ৮০ শতাংশ কাজ শেষ করেছেন।

এলজিইডির নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়ালের ভাষ্য, তিনি এখানে নতুন। তবে যোগদান করার পর থেকে ঠিকাদারদের এই অর্থবছরে কাজ শেষ করার তাগাদা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ঠিকাদাররা তা কানে তুলছেন না। চলতি অর্থবছরে কাজ শেষ না হলে নিয়ম অনুযায়ী টাকা ফেরত যাবে। পরে কখনও টাকা পাওয়া গেলে তখন কাজ শেষ করতে হবে।

আরও পড়ুন

×