ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

গ্রাফিতি ইস্যু

চট্টগ্রামে উত্তেজনার মধ্যেই মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করল সিএমপি

চট্টগ্রামে উত্তেজনার মধ্যেই মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করল সিএমপি
×

গতকালের ছবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ | ১৮:৪০ | আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ | ২০:১৯

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি বিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলা ইস্যুতে চট্টগ্রাম নগরীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আজ সোমবার সকালে টাইগারপাস এলাকায় এনসিপি সমর্থকরা জড়ো হলে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে যাতে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য নগরীর প্রধান সড়ক বহদ্দারহাট-পতেঙ্গা সড়কের জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট ও আশেপাশের এলাকায় জনসমাবেশ, মিছিল ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এ গণবিজ্ঞপ্তিতে সই করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিএমপির সহকারী কমিশনার (সদর) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ। 

এদিকে নিষেধাজ্ঞা উপক্ষো করে দুপুরে ফের টাইগারপাস এলাকায় নতুন করে গ্রাফিতি অঙ্কনের জন্য যান বেশ কয়েকজন তরুণ-তরুণী। তাদের হাতে ছিল রঙয়ের জার আর তুলি। কিন্তু সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা তাদের দাঁড়াতেই দেননি। কয়েকজন রঙ-তুলি নিয়ে সড়কে বসে পড়লে তাদেরও জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের কয়েক দফায় বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার বেশকিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করে। তবে কিছু সময় পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, জুলাই গ্রাফিতি আঁকতে গিয়ে পুলিশের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। এজন্য তারা বিচার নিয়ে যান নগরীর দামপাড়াস্থ নগর পুলিশ কমিশনারের কাছে। নগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের শান্ত করেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

এ ব্যাপারে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী গণমাধ্যমকে বলেন, নগরে দেয়ালে দেয়ালে জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কনের বিষয়টি নাগরিক অধিকার। এই ধরনের শিল্পচর্চায় পুলিশের কোনো বাধা নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। যে কেউ চাইলে এই ধরনের গ্রাফিতি আঁকতে পারবেন।

রোববার দুপুরে নগরীর ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়কের’ পিলারে আঁকা জুলাইয়ের গণআন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্দেশে গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। দায়ী করেন চসিক মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে। প্রতিবাদে সন্ধ্যায় নগরের টাইগার পাস এলাকায় চসিক কার্যালয়ের প্রবেশমুখের সামনে ‘জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন’ কর্মসূচি পালন করলে বিষয়টিকে ঘিরে উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে।

সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে জারি করা সিএমপি কমিশনারের গণবিজ্ঞপ্তিকে ‘শেখ হাসিনা স্টাইলের’ সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করছেন এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয়। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতাকে যেভাবে দমন করতে চেয়েছিল, বিএনপিও এখন একই কায়দায় প্রশাসনকে দিয়ে ছাত্র-জনতাকে দমন করতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করিয়েছে।’ বিষয়টি নিয়ে বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।

তবে গ্রাফিতি মুছে ফেলা ইস্যুতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, বিএনপি জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করে। ফলে বিএনপি গ্রাফিতি মুছে ফেলবে এটা কেউ বিশ্বাস করবে না। 

চলমান পরিস্থিতিতে আজ চসিক কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের দিয়ে নান্দনিক গ্রাফিতি অঙ্কন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এজন্য সিটি করপোরেশন যদি টাকা দিতে না পারে, তাহলে নিজের পকেটের টাকায় এ কাজটি করার কথাও বলেছেন তিনি। 

মেয়র বলেন, ‘আজ অনেকে গ্রাফিতি বা নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করলেও আহত জুলাই যোদ্ধা ও তাদের পরিবারের কষ্টের কথা খুব কম মানুষই ভাবছে। গত ৩ আগস্ট আমার নিজের বাড়িতে আগুন ও বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। সেখানে গ্যাস চেম্বার তৈরি করে হামলার ঘটনাও ঘটে এবং বৃদ্ধা মাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ড্রাইভারের সাহসিকতায় পুরো ভবন পুড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।’ 

তিনি বরেন, ‘৪ আগস্ট আহত জুলাই যোদ্ধাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হলে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলাম। ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে আহতদের ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। তাই জুলাই আন্দোলনের সময় তরুণরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা শুধু মুখে বললে হবে না, বরং এটাকে অন্তরেও ধারণ করতে হবে।’ 

আরও পড়ুন

×