ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে অচল বাস চলাচল, কমিটি প্রত্যাখ্যান

শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে অচল বাস চলাচল, কমিটি প্রত্যাখ্যান
×

শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে রাজশাহী থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ। ছবিটি গতকাল সোমবার নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল থেকে তোলা শরিফুল ইসলাম তোতা

 রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ০৮:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নবঘোষিত কমিটিকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। কমিটি প্রত্যাখ্যান করে একাংশের আন্দোলনের মুখে সোমবার সকাল থেকে রাজশাহীর মালিকানাধীন সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রাজশাহী থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে যাত্রী পরিবহন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। 
হঠাৎ এই পরিবহন সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। অনেকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনে অটোরিকশা কিংবা ছোট যানবাহনে নাটোর গিয়ে সেখান থেকে গন্তব্যের বাস ধরছেন। 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত নতুন কমিটিকে ঘিরে শ্রমিকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি এবং মমিনুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্যের রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে কমিটিতে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব না থাকার অভিযোগ তুলে শ্রমিকদের একটি বড় অংশ তাৎক্ষণিকভাবে কমিটি প্রত্যাখ্যান করে। এর প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকেই রাজশাহী থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে নগরীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও কাউন্টার এলাকায় যাত্রীদের দীর্ঘ ভিড় দেখা যায়। কিন্তু কোনো বাস না ছাড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন তারা।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘এই কমিটির অধীনে শ্রমিকরা বাস চালাতে চাচ্ছে না। তাই সকাল থেকে রাজশাহীর মালিকদের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে।’

বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। অনেকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ছোট যানবাহনে নাটোরে গিয়ে সেখান থেকে অন্য বাসে গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন। 
নাটোর বড়হরিশপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, রাজশাহী থেকে আসা বহু যাত্রী লোকাল বাস কিংবা বিকল্প পরিবহনে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ঢাকাগামী যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরে টিকিট কাটতে গিয়ে জানতে পারি বাস ছাড়বে না। বাধ্য হয়ে লোকাল বাসে করে নাটোর এসে অন্য বাস ধরতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে গেছে।’ রাজশাহীগামী যাত্রী শিউলি বেগম বলেন, ‘কোনো বাস না থাকায় খুব বিপদে পড়েছি। এখন বিকল্প যানবাহনে যেতে হবে।’ নাটোরের দেশ ট্রাভেলসের কাউন্টার মাস্টার পলাশ হোসেন জানান, রাজশাহী থেকে বাস না ছাড়ায় নাটোর থেকেও কাউন্টার টিকিট বিক্রি করা যাচ্ছে না।
নতুন কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, ‘নতুন কমিটিতে কিছু শ্রমিক বাদ পড়েছে। তারাই মূলত বাস চলাচল বন্ধ করে নির্বাচন দাবি করছে। আমরা তাদের অনুরোধ করছি, বাস চালু রেখে আন্দোলন করতে। কিন্তু তারা কোনো কথা শুনছে না। তিনি আরও বলেন, ‘তাদের মূল দাবি নির্বাচন। আমি বলেছি, নির্বাচন হতে হয়তো এক-দেড় মাস সময় লাগতে পারে। কিন্তু বাস বন্ধ করে জনগণ ও সরকারকে বিপদে ফেলা ঠিক হচ্ছে না।’ পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কেন পদত্যাগ করব ? তারা আমার পদত্যাগ চায় না, নির্বাচন চায়। আলোচনা চলছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।’

আন্দোলনকারী শ্রমিকরা বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে একতরফাভাবে কমিটি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া আমরা রাজপথ ছাড়ব না। 
নাটোর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘শুধু রাজশাহীর বাস বন্ধ রয়েছে। নাটোর থেকে দেশের অন্যান্য জেলার বাস চলাচল স্বাভাবিক আছে।’ নাটোর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী শাহ আলম বলেন, ‘নাটোরের সঙ্গে কোনো সমস্যা নেই। রাজশাহী থেকেই বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।’
হঠাৎ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মজীবী মানুষ, রোগী, শিক্ষার্থী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বিশেষ করে ঈদপূর্ব সময়ে এমন অচলাবস্থায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা বলছে, শ্রমিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের দায় এভাবে আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের ওপর চাপানো উচিত নয়। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন

×