ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এসপি হারুনকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের বিদায়ী সংবর্ধনা

এসপি হারুনকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের বিদায়ী সংবর্ধনা
×

ছবি: সমকাল

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:৩৯

চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর স্ত্রী-সন্তানকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে আনার অভিযোগের মুখে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে সরিয়ে আনা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শিগগিরই শুরু হবে। বৃহস্পতিবার সকালে একদিকে এমন কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, অন্যদিকে দুপুরে সেই এসপি হারুনকে জানানো হলো বিদায়ী সংবর্ধনা। অনেকের মতে, এসপি হারুনের বিষয়টি যেখানে স্বাভাবিক বদলি নয়, নানা অভিযোগের মুখে প্রত্যাহার; সেখানে তাকে অনুষ্ঠান করে বিদায় জানানোয় সর্বমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইনসে দুপুরে এসপি হারুনের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে এসপি হারুন সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর দুপুর ১২টায় আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে লোকসমাগম হচ্ছিল না। পরে আড়াই ঘণ্টা দেরিতে বেলা আড়াইটায় বিদায় অনুষ্ঠানটি শুরু হলেও বেশিরভাগ আমন্ত্রিত অতিথিই অনুষ্ঠানে যাননি।

এসপি হারুনের শাস্তি দাবি করে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল বলেন, তার বিদায়ে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তি এসেছে। ব্যবসায়ীদের তার হাত থেকে বাঁচাতে আন্দোলনও করতে হয়েছে আমাদের। তার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাই।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এসপি হারুনের বিরুদ্ধে আম্বার ডেনিমের কর্ণধার ও বিসিবির পরিচালক শওকত আজিজ রাসেলের কাছ থেকে ৮ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে। চাঁদা না পেয়ে গভীর রাতে রাসেলের স্ত্রী-সন্তানকে বাড়ি থেকে তুলে আনেন তিনি। এরপর গত ৩ নভেম্বর এসপি হারুনকে বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তাকে ঢাকায় পুলিশ অধিদপ্তরের পুলিশ সুপার (ট্রেনিং রিজার্ভ) পদে পদায়িত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন বলেন, ৮ কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তিনি একজন বড় ব্যবসায়ীর স্ত্রী-সন্তানকে বাড়ি থেকে সন্ত্রাসী কায়দায় তুলে এনেছেন। আইনের রক্ষক হয়ে যিনি এমন কাজ করতে পারেন, তিনি কোনোভাবেই পুলিশ সুপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারেন না। তার বিরুদ্ধে দেশের আরেক শিল্পপতিকেও আটকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তাই এসপি হারুনের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম বলেন, এসপি হারুনের দায়িত্ব পালনের সময়ে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তার কাছে নিরাপদ ছিলেন। প্রশ্ন ওঠে- এসপি হারুনের মিশন কী ছিল? তার মতো বিতর্কিত কর্মকর্তার বিদায় অনুষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক (ডিআইও-১) আবদুল মমিন জানান, বিদায় অনুষ্ঠানের রীতি অনুযায়ী এসপি হারুনের গাড়ি পুলিশ কর্মকর্তারা টেনে পুলিশ লাইনসের বাইরে নিয়ে যান। তাকে প্রটোকল দিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের সাইনবোর্ড পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়া হয়। এখন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের দায়িত্বে এসেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

×