ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গোপালগঞ্জ

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৩ যুবককে রুশ সেনাবাহিনীতে বিক্রির অভিযোগ

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৩ যুবককে রুশ সেনাবাহিনীতে বিক্রির অভিযোগ
×

ভুক্তভোগী রনি ফকির, সৌরভ মোল্লা, পলাশ শেখ। ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ১০:৩০

চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন গোপালগঞ্জের তিন যুবক। অভিযোগ উঠেছে, নির্মাণকাজে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাদের রাশিয়ায় নেওয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ইউক্রেন সীমান্তবর্তী এলাকায় পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা হলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষেরচর উত্তরপাড়া গ্রামের পলাশ শেখ, সুতিয়ারকুল গ্রামের রনি ফকির এবং বলাকৈড় গ্রামের সৌরভ মোল্লা। তাদের পরিবার জানিয়েছে, ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকার জাবাল ই নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের একটি এজেন্সি মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে রাশিয়ায় নির্মাণকাজের চাকরির প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, গত ৭ মে এই তিনজনসহ মোট ৩০ জন বাংলাদেশিকে একটি ফ্লাইটে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং সামরিক ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চুল কেটে সামরিক পোশাকের মাপ নেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়।

পলাশ শেখের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, চাকরির নামে প্রতারণা করে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর অধীনে পাঠানো হয়েছে। রনি ফকিরের স্ত্রী তৃষা বেগম জানান, তার স্বামী শেষবার ফোনে জানিয়েছিলেন তারা রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি একটি সেনা ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। সেখানে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে এবং তারা জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছেন।

সৌরভ মোল্লার স্বজনরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তারা জানান, ভিডিও কলে সৌরভকে সেনা ক্যাম্পের মতো পরিবেশে দেখা গেছে এবং তার আচরণ স্বাভাবিক মনে হয়নি। পরিবারের সদস্যরা এখন দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় পলাশ শেখের বাবা মো. জামিল শেখ ঢাকার খিলক্ষেত থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। খিলক্ষেত থানার ওসি মোহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন বলেন, বিষয়টি বিএমইটির আওতাধীন হওয়ায় প্রথমে সেখানে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে বলেও জানান তিনি।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×