ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মহেশখালী চ্যানেল

পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ছাড়াই বালু উত্তোলন

পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ছাড়াই বালু উত্তোলন
×

 ইব্রাহিম খলিল মামুন, কক্সবাজার

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ১৪:১১ | আপডেট: ২০ মে ২০২৬ | ১৪:৩৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) ছাড়াই কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেলে বালু তুলছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তিন দিন ধরে দুটি ড্রেজার দিয়ে তারা বালু তুলছে। জেলা প্রশাসন বলছে, ইআইএসহ ১৩টি শর্তে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে বালু তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শর্ত ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত সোমবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, মহেশখালী চ্যানেলে দুটি ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। সেখানে সিফাত নামে এক ব্যক্তি বালু তোলার কার্যক্রম তদারকি করছিলেন। তিনি নিজেকে বালু তোলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের (এমআইএল) একজনম কা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আমরা বালু উত্তোলন করছি।' তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ- পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএর একটি দল। দলের নেতৃত্ব দেন বিআইডব্লিউটিএর কক্সবাজার জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক নয়ন শীল। পরিদর্শন শেষে তিনি সমকালকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া অনুমতিপত্রে ১৩টি শর্তের একটি হচ্ছে ১৮ ইঞ্চি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করতে হবে। কিন্তু আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই, ১২ ইঞ্চি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে করে অনুমতিপত্রের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে। বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

১৮ ইঞ্চি ড্রেজার হচ্ছে কাটার ড্রেজার। এটা বেশ শক্তিশালী। এটি সাগরের তলদেশের শক্ত মাটি বা পাথরকে কেটে টুকরো টুকরো করে। এরপর কাদা বানিয়ে উপরিভাগে নিয়ে আসে। ১২ ইঞ্চি ড্রেজার হচ্ছে সাকশন ড্রেজার। এটি মূলত ভ্যাকুয়ামের মতো কাজ করে, যা তলদেশের উপাদানগুলোকে টেনে তোলে এবং পাইপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে স্থানান্তর করে।

মহেশখালী চ্যানেল কিংবা মহেশখালী উপকূল থেকে বালু তুলতে কাউকে ইআইএ দেওয়া হয়নি জানিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন সমকালকে বলেন, খোঁজখবর নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজারভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা বলছেন, ইআইএ না করে এভাবে নির্বিচারে বালু তুললে এলাকার পরিবেশ প্রতিবেশ ভয়াবহ সংকটে পড়বে।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. . মান্নান সমকালকে বলেন, ঠিকদারকে শর্তসাপেক্ষে বালু তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক রেখে তাদের বালু তুলতে হবে এবং পরিবেশ, প্রতিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না। সরেজমিন গিয়ে দেখা হবে শর্তের কোনো নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে কিনা, সেটা হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

×