খুলনা হাসপাতাল
রোগীদের খাবার মুখে নিয়ে ফেলে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ক্ষোভ প্রকাশ
রোগীদের খাবারের মান যাচাইয়ের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ১৭:৩৪ | আপডেট: ২০ মে ২০২৬ | ১৭:৩৪
আকস্মিকভাবে খুলনা জেনারেল হাসপাতাল (সদর হাসপাতাল) পরিদর্শনে গিয়ে রোগীদের খাবারের মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে হাসপাতালের রান্নাঘরে গিয়ে রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবারের মান পরীক্ষা করেন মন্ত্রী। রান্না করা কুমড়ার তরকারি মুখে দিয়েই তা ফেলে দেন তিনি। পরে হাসপাতালের পরিচালককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এ ধরনের তরকারি আপনাদের বাসায় রান্না হলে কি খেতেন?’ এ সময় তিনি বাবুর্চিকে ডেকে রান্নার মান উন্নয়নের পরামর্শ দেন। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বহির্বিভাগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শৌচাগারও ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি থাকায় কিছু অনিয়ম থাকতে পারে। তবে কিছু অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের স্বার্থে যতটুকু ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, ততটুকুই নেওয়া হবে। অ্যান্টি র্যা বিস ভ্যাকসিনের কথা আপনারা শুনেছেন, এ রকম হওয়ার কথা ছিল না। এটা আরেকটু খতিয়ে দেখব। তবে ওয়ার্ড পরিদর্শনের সময় রোগীরা সেবা ভালো পান বলেছেন।’
দেশব্যাপী হাসপাতালগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে আগামী বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে ১ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাজেট পাস হলে দেশের হাসপাতালগুলোকে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দিয়ে সমৃদ্ধ করা হবে।’
পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করেন তিনি। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অপারেশন থিয়েটার দ্রুত চালুর নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যখাতে তেমন কিছু কেনা হয়নি, শুধু লুটপাট হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারও এ খাতে নজর দেয়নি। আমরা ইনশাআল্লাহ বাজেট বৃদ্ধি করছি। বাজেট পাস হলে আগামী অর্থবছরে হাসপাতালগুলোতে যতটুকু সম্ভব আধুনিক মেশিন ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে খুলনাসহ দেশের পাঁচ বিভাগীয় শহরে নির্মাণাধীন অত্যাধুনিক পাঁচটি শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। এতে শিশু স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত তৈরি হবে বলে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনার সিভিল সার্জন মোছা. মাহফুজা খাতুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
