সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদে ছয় নেতার দৌড়ঝাঁপ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ০৯:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঈদুল আজহার পরেই যুবদলের দীর্ঘদিনের পুরোনো জেলা কমিটিগুলো ভেঙে দেওয়ার বার্তা এসেছে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে। সংগঠনকে তৃণমূল পর্যন্ত শক্তিশালী করে গড়ে তুলতেই এমন উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন যুবদল নেতারা। এতে সুনামগঞ্জে নয় বছর আগে হওয়া যুবদলের কমিটিতে শিগগির পরিবর্তন আসতে পারে। জেলা যুবদলের পদ প্রত্যাশীরাও এ জন্য যোগাযোগ করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে। প্রতিযোগিতা করে সক্রিয় থাকছেন সংগঠনের নানা কাজে।
২০১৭ সালের শেষের দিকে পুরাতন কমিটি ভেঙে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবুল মুনসুর শওকতকে সভাপতি ও অ্যাড. মামুনুর রশিদ কয়েছকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের পাঁচ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে ২০১ সদস্যের জেলা কমিটি গঠন করা হয়। গত নয় বছরে এই কমিটির অনেকে বিএনপিতে সক্রিয় হয়েছেন। কেউ কেউ প্রবাসেও আছেন। নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন বহু নেতা। জেলা কমিটিকে চাঙা করতে নতুন কমিটি গঠনের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নেতৃত্ব পেতে আগ্রহীরা নানাভাবে তদবিরেও নেমেছেন।
সভাপতি কিংবা আহ্বায়ক পদে তিন যুবনেতা তদবিরে নেমেছেন। এরা হলেন- জেলা যুবদলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রশিদ আমিন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মামুনুর রশিদ কয়েছ এবং বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু। সাধারণ সম্পাদক কিংবা সদস্য সচিবের পদ পেতে সক্রিয় তোফাজ্জুল হোসেন, নুরুল আলম ও শাহ্ মোহাম্মদ ফরহাদ।
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রশিদ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক ছিলেন। জেলা যুবদলের বিগত কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন তিনি। গেল বছরের পহেলা জানুয়ারি সভাপতি আবুল মুনসুর শওকত মূল দল বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হলে, তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয় আমিনুর রশিদকে। কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্দেশে আমিনই এখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
আমিনুর রশিদ বললেন, ঈদের পর কেন্দ্রীয় যুবদলের সাংগঠনিক টিমের সফর আছে। তারা এসে যে নির্দেশনা দেবেন সেই অনুযায়ী কার্যক্রম চলবে। নয়া কমিটি হলে আহ্বায়ক বা সভাপতি পদে দায়িত্ব দিলে সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করতে কাজ করবেন তিনি।
সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ কয়েছ বললেন, ‘দুর্দিনে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছি। নতুন কমিটি হলে সভাপতি বা আহ্বায়ক পদেই কাজ করতে চাই।’ কামরুল হাসান রাজু বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘দলের সংকটময় মুহূর্তে মাঠ ছাড়িনি। সকল অঙ্গ সংগঠনের কাজে নিজেকে যুক্ত রেখেছি। যেহেতু সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম, এখন সভাপতি পদে দায়িত্ব পালনে আগ্রহী।’
সাধারণ সম্পাদক বা সদস্য সচিব হতে আগ্রহী তোফাজ্জুল হোসাইন বলেন, গেল ১৭ বছর দলের নেতাদের ওপর যখনই পুলিশি হয়রানি হয়েছে, তিনি এর শিকার হয়েছেন। আন্দোলন সংগ্রামের জন্য রাজধানী ঢাকায় গিয়েও জেল খেটেছেন। তাঁর নেতা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল এমপি। তিনি তাঁকে (তোফাজ্জুল) যুবদলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।
যুবদলের বর্তমান যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম বললেন, ‘সুনামগঞ্জের এমন কোনো আন্দোলন সংগ্রাম নেই যেখানে বিগত সময়ে ছিলাম না। ২০২৩ সালে এক মাস কেরানীগঞ্জের কারাগারে ছিলাম। দলের নেতারা নিশ্চয়ই এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবেন।’
শাহ মোহাম্মদ ফরহাদ বললেন, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর থেকে হাসিনা পতনের আন্দোলনে জীবন বাজি রেখে মাঠে ছিলেন তিনি। কেন্দ্রীয় যুবদল নেতারা এসব জানেন। তারা নিশ্চয়ই ত্যাগের মূল্যায়ন করবেন।
- বিষয় :
- সভাপতি
