বকশীগঞ্জ
ভিজিএফ চাল, বরাদ্দের ৫০ ভাগ বিএনপি নেতাদের দিলেন চেয়ারম্যান
বিএনপি নেতাদের হাতে ভিজিএফ কার্ড তুলে দিচ্ছেন বগারচর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ। ছবি: সংগৃহীত
বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ১৭:৪৮ | আপডেট: ২২ মে ২০২৬ | ১৭:৪৯
জামালপুরের বকশীগঞ্জে হতদরিদ্রদের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত ভিজিএফের ৫০ ভাগ কার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি নেতাদের হাতে তুলে দিয়েছেন বগারচর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ। গতকাল বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে আয়োজন করে এসব কার্ড তুলে দেন তিনি। রাতে কার্ড হস্তান্তরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চেয়ারম্যানসহ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠে। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি নেতাদের হেয় করতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে চেয়ারম্যানের দাবি, এটা দলীয় সিদ্ধান্ত।
জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য ৮ হাজার ৪৮টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেয় সরকার। প্রতিটি কার্ডধারী সুবিধাভোগী পরিবার পাবেন ১০ কেজি করে চাল। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রকৃত দুস্থ ও হতদরিদ্রদের তালিকা করে এই কার্ড বিতরণ করার কথা। কিন্তু বগারচর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ বরাদ্দের ৫০ ভাগ কার্ড ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের হাতে তুলে দেন। চেয়ারম্যানের হাত থেকে কার্ড বুঝে নেন বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জু, বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলাল এবং সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলম। এ ঘটনায় নেটিজেনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা করছেন। কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এছাড়া ৫০ ভাগ কার্ড বিএনপি নেতাদের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় ইউপি সদস্যদের মধ্যেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে তারা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউপি সদস্য জানান, আগে কখনো এমন হয়নি। ৫০ ভাগ কার্ড দলীয় নেতারা নিয়ে গেলেন, অথচ আমরা এলাকার মানুষকে কার্ড দিতে পারছি না। সকাল হলেই বাড়িতে কার্ডের জন্য ভিড় জমায় লোকজন, বাধ্য হয়ে বাড়ি ছেড়ে থাকতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, চাল আসে গরিব মানুষের জন্য, স্লিপ পান ধনীরা। ভাগাভাগি হলে হতদরিদ্র পরিবার সুবিধাবঞ্চিত হবে। যাছাই বাছাই করে ইউনিয়নের প্রকৃত দুঃস্থদের মধ্যে কার্ড বিতরণের দাবি তার।
বকশীগঞ্জ গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক শাহরিয়ার সুমন বলেন, গরীবের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের ৫০ ভাগ কার্ড যারা নিয়েছেন তারা যেমন অপরাধী, যিনি দিয়েছেন তিনিও অপরাধী। এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারনে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। কার্ডগুলো যাতে প্রকৃত দুঃস্থরা পান সেই দাবি জানাচ্ছি।
বগারচর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ বলেন, পরিষদের ওপর যাতে কোনো চাপ না আসে সেজন্য দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক ভিজিএফের বরাদ্দকৃত কার্ডের ৫০ ভাগ বিএনপির সিনিয়র নেতা হাসিবুল হক সঞ্জু, বেলায়েত হোসেন বুলাল এবং সফিউল আলমের হাতে তুলে দিয়েছি। তারা সেই কার্ড বিতরণ করবেন।
ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলাল জানান, এটা দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত নয়। বিএনপি নেতা হাসিবুল হক সঞ্জু তাকে ফোন করে পরিষদে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর দেখেন অনেকেই বসে আছেন, এসময় হঠাৎ করে চেয়ারম্যান তাদের হাতে কার্ড তুলে দেন। তবে উপজেলার সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে কার্ডগুলো পরিষদেই রেখে এসেছেন বলে জানান তিনি। বলেন, এটা ষড়যন্ত্র মনে হচ্ছে।
বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, দলীয় কোটা বলতে কিছু নেই। এ ধরনের কোনো নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি। বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কার্ড যাতে প্রকৃত হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী পায় সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। সরকারি নিয়মানুযায়ী কার্ড বিতরণ হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। এটা হয়তো চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হাবিবুর রহমান সুমন বলেন, তদারকি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড ও চাল বিতরণ করার কথা রয়েছে। কোনো দলের নেতাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড হস্তান্তরের সুযোগ নেই। এটা নীতিমালার বাইরে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, সরকারি নীতিমালার বাইরে কেউ কিছু করে থাকলে দায়ভার তার। ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- জামালপুর
- ভিজিএফ কর্মসূচি
