গরুর হাট নিয়ে দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, আহত ১০
সিরাজদীখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ০৮:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে গরুর হাট বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চর জসীমউদ্দিন এলাকায় বাউল গ্রুপ ও সরকার গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বালুচর বাজারের বণিক সমিতির নির্বাচন ও এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে শহীদ বাউল গ্রুপ ও খোকন সরকার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই মধ্যে গরুর হাটের বসানো নিয়ে বিরোধ চরমে ওঠে। এর জেরে গতকাল সকালে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে শাকিল সরকার, আসফাক সরকার ও হৃদয় সরকার নামে তিনজন টেঁটাবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, বাকি আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
বালুচর ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন বলেন, মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়েছে, বেশ কয়েককজন আহত হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
সিরাজদীখান থানার ওসি আব্দুল হান্নান জানান, গরুর হাটের ইজারা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাউল ও সরকার গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়রা জানান, আজ শনিবার এবং আগামী ২৬ মে বালুচর বাজারে গরুর হাট বসার কথা রয়েছে। এ হাটের ইজারা নিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও মুন্সীগঞ্জ জেলার সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান। এ বিষয়ে শহীদ বাউলের ভাই আকরাম বাউল বলেন, হাটের ইজারা নিয়েছেন জাহিদুর রহমান, কিন্তু হাট যাতে না বসতে পারে এই জন্য খোকন সরকারের লোকজন ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খোকন সরকার বলেন, এ ঘটনায় আমাদের লোক জড়িত নয়। এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
হাটের ইজারাদার গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও মুন্সীগঞ্জ জেলার সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান বলেন, বাজারের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য খামারি ও ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যাতে হাটে বেচাকেনা ব্যাহত হয়। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হাট পরিচালনা করতে চাই।
- বিষয় :
- সংঘর্ষ
