ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

উত্তরাঞ্চলের মানুষের ঈদযাত্রা

হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জে চালু নতুন র‍্যাম্প, তবুও ভোগান্তির শঙ্কা

হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জে চালু নতুন র‍্যাম্প, তবুও ভোগান্তির শঙ্কা
×

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জে উত্তরাঞ্চলমুখী নতুন র‍্যাম্প চালু সমকাল

 সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ০৮:৫২

| প্রিন্ট সংস্করণ

উত্তরাঞ্চলের মানুষের ঈদযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফেরাতে নির্মাণাধীন হাটিকুমরুল মোড়ের ‘ক্লোভার লিভস ইন্টারচেঞ্জ ফ্লাইওভার’-এর বগুড়া-রংপুরমুখী র‍্যাম্প যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে চালু হওয়া এই র‍্যাম্প ব্যবহারে উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহনের চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হলেও যমুনা সেতু এবং সেতুর পূর্ব পারে টাঙ্গাইল অংশে ধীরগতি এবং দুর্ঘটনার শঙ্কা এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

ঈদে নীলফামারী যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যাংক কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘গত রোজার ঈদে এলেঙ্গা ও সয়দাবাদ এলাকায় চার-পাঁচ ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিলাম। এবারও কিছুটা ভোগান্তির আশঙ্কা আছে। তবে উত্তরাঞ্চলমুখী নতুন র‍্যাম্প চালু হওয়ায় অন্তত হাটিকুমরুল অংশে কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে আশা করছি।’
উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক সংযোগস্থল। যমুনা সেতু পার হয়ে এই মোড় থেকেই যানবাহন ছড়িয়ে পড়ে রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায়। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদ মৌসুমে তা বেড়ে ৫০ হাজারে পৌঁছে। ফলে প্রতিবছরই এই এলাকায় দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

প্রায় ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের ‘ক্লোভার লিভস ইন্টারচেঞ্জ ফ্লাইওভার’ প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে এবং যমুনা সেতুর ওপর সম্প্রসারণ কাজ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 
এদিকে গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত যমুনা সেতুর ওপর ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী লেনে পরপর তিনটি দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাণহানি না ঘটলেও বাস ও ট্রাকসহ ছয় থেকে সাতটি যানবাহন পেছন থেকে একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত সেতু এলাকায় যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে চলাচলে ধীরগতির কারণে ওই এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালালেও পুরোপুরি স্বাভাবিক গতি ফিরতে সময় লাগে।

যাত্রী ও চালকরা জানান, দুর্ঘটনার কারণে ওই সময় যমুনা সেতু এলাকায় যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় এবং ধীরগতিতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়, যা ঈদযাত্রার প্রথমদিকেই ভোগান্তির ইঙ্গিত দেয়।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় ওই অংশে ধীরগতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারহান ইমতিয়াজ সুমন। তিনি মনে করেন, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের নতুন র‍্যাম্প চালু হওয়ায় যানবাহনের চাপ কিছুটা ভাগ হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যমুনা সেতুর ওপর পুরোনো রেললাইন অপসারণের মাধ্যমে উভয় পাশে প্রায় সোয়া দেড় মিটারের বেশি অতিরিক্ত সড়ক সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী উত্তর ও দক্ষিণমুখী লেন প্রশস্ত করা হলে যান চলাচল আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে। তবে আন্তর্জাতিক দরপত্র ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ সম্পন্ন হলেও এখনও দৃশ্যমান কাজ শুরু হয়নি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) সাউথ এশিয়া সাবরিজনাল কো-অপারেশন (সাসেক)-২ প্রকল্পের পরিচালক ও সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী  (প্রশাসন) ড. ওয়ালীউর রহমান বলেন, নতুন চালু হওয়া র‍্যাম্প দিয়ে উত্তরাঞ্চলগামী প্রায় ৬০ শতাংশ যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এতে ঈদযাত্রা কিছুটা গতিশীল হবে। তবে যমুনা সেতুর ওপর চাপ থাকলে পুরোপুরি সমস্যা দূর হবে না। এমনকি রাস্তা সম্প্রসারণের সুফলও ভোগ করা যাবে না। কারণ মূল সংকট এখনও যমুনা সেতুকেন্দ্রিক। 

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজউদ্দিন সমকালকে বলেন, ঈদের সময় চালকদের হুড়োহুড়ি, লেন পরিবর্তন ও অসতর্কতার কারণে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ হাজার ৬০০ যানবাহন যমুনা সেতু পার হয়েছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, এ চাপ আরও বাড়বে। 
সৈয়দ রিয়াজউদ্দিন আরও বলেন, যমুনা সেতুতে সড়ক সম্প্রসারণ কাজ বাস্তবায়ন হলে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

আরও পড়ুন

×