আইনি লড়াই শেষে ভোটে ফিরল চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি
দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ১৯:৩২ | আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ | ১৯:৪২
দীর্ঘ ১২ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হলো দেশের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ী সংগঠন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন। নানা নাটকীয়তা, মামলা ও পাল্টা মামলার পর শনিবার নগরের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনকে ঘিরে শেষ মুহূর্তেও ছিল অনিশ্চয়তা। গত বৃহস্পতিবার সমমনা পরিষদের নেতা এস এম নুরুল হক ও মো. আজিজুল হকের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ছয় মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দেন। তবে একই দিন বিকেলে চেম্বার জজ সেই আদেশ স্থগিত করলে নির্বাচন আয়োজনের পথ খুলে যায়।
সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। সাড়ে ৬ হাজার ভোটার থাকলেও উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। তবে ভোটকেন্দ্র ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
চেম্বারের এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চলছিল। মামলা, রিট ও পাল্টা রিটের জটিলতায় প্রায় ২০ মাস ধরে নেতৃত্বশূন্য ছিল শতবর্ষী এ সংগঠন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে পাঁচবার নির্বাচন স্থগিতও করা হয়।
নির্বাচনে এফবিসিসিআই-এর সাবেক পরিচালক আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম এবং সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন সমমনা পরিষদ পৃথক প্যানেল ঘোষণা করেছিল। তবে ভোটের আগের দিন নুরুল হকের প্যা নেল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। এতে ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের যুগ্ম সচিব নুরুল আবসার চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে দুটি পক্ষ আদালতে সক্রিয় ছিল। একটি পক্ষ নির্বাচন বন্ধ করার চেষ্টা করেছে। আরেকটি পক্ষ নির্বাচন যেন ঠিক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, সেই চেষ্টা করেছে। তবে আমাদের কাছে বা নির্বাচন কমিশনারের কাছে এসব ব্যাপারে কোনো চিঠি আসেনি। তাই নির্বাচন শনিবারে যথাসময়েই শেষ করি আমরা।’
ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের প্যা নেল লিডার আমিরুল হক বলেন, ‘এক যুগ পর ভোটাররা নির্বাচনে আগ্রহভরে অংশ নিয়েছে। যারা আজ ভোট বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছে তাদেরও অনেকে ভোট পাবে। আশা করছি ভোটের পরে মিলেমিশে আবার ব্য্বসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবো আমরা।’
এ নির্বাচনে অর্ডিনারি ও অ্যাসোসিয়েট গ্রুপ থেকে মোট ১৮ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এর আগে টাউন ও ট্রেড গ্রুপের ৬ পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সাধারণ শাখার পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ও নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২৩ মে নির্বাচনের বিষয়টি জানানো হয়।
